
শিক্ষকদের মূল্যায়ন ছাড়া সুশিক্ষিত সমাজ গড়া সম্ভব নয় মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, আমরা যদি শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করি, শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন না হই তাহলে সুশিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আয়েজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
‘শিক্ষকের মূল্যায়ন, মর্যাদার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য সামনে নিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০১৬ জাতীয় উদযাপন কমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
জাতীয় শিক্ষক ও কর্মচারি জোটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ইউনেস্কোর ঢাকা প্রতিনিধি বিয়েট্রিস কালদুম, গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশান-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদা কে চৌধুরী।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আজকে পৃথিবীর সব শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম দিন। আজকের দিন শিক্ষকদের জন্য সম্মানের দিন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের সাথে মিলিত হয়ে অভিনন্দন জানায়ি শিক্ষকদের সম্মানিত করবে।
বাদশা আলমগীরের শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কিত সেই ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকের মর্যাদার নতুন কোনো বিষয় নয়। এই উপমহাদেশে গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক সম্মান, মর্যদা এবং স্নেহের সম্পর্ক। সে সম্পর্কের কথা আমাদের এ অঞ্চলে নতুন করে বলার প্রয়োজন হয় না।
তিনি বলেন, আমি এখনও যখন অফিসে বসে থাকি আমার শিক্ষকরা আসেন তখন আমি উৎকণ্ঠায় থাকি। আমি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে, উৎকণ্ঠায় থাকি যখন আমার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা আমার অফিসে আসেন। সে সময়ের শিক্ষক যখন আসেন, তাকে যথাযথ শ্রদ্ধা-সম্মান করতে পারছি কিনা? আমার কোনো আচার-আচরণে, বক্তব্যে তিনি মনে বিন্দুমাত্র কষ্ট পান কিনা সেজন্য আমি ভয়ে থাকি।
প্রাথমিকের শিক্ষকদের সম্মানে তিনি বলেন, তাদের ব্যাপারে উদ্বেগ এ কারণেই বেশি যে তাকে আমার সম্মান করতে হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ, তিনি আমার অন্তরে শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলন করেছেন বলেই আমার প্রাথমিক, মাধ্যমিক পেরিয়ে উচ্চতর শিক্ষায় আসা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, একটা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির মূল জায়গা হচ্ছে প্রথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য সেই সময়ে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় পর্যায়ের আওতায় এনে প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্পন্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।




