উপমহাদেশশিরোনাম

কাশ্মিরে খুব শিগগিরই স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য উদিত হবে: হুররিয়াত প্রধান

হুররিয়ত প্রধান বলেন, নিজেদের অধিকার রক্ষায় আপনারা ত্যাগ স্বীকার করছেন, এ ত্যাগ কখনো নিষ্ফল হবে না। সাইয়েদ আলি গিলানি আরো বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শিগগিরই কাশ্মির স্বাধীনতা লাভ করবে। নিজেদের আত্মপরিচয়, ধর্ম ও জাতীয়তার বিষয়ে কোনো সমঝোতা করা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য অর্জনে জম্মু, কাশ্মির ও লাদাখের প্রতিটি নাগরিককে সীসাঢালা প্রাচীরের মতো এক থাকতে হবে।
কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই ভাগ করে ফেলার পর থেকেই গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন হুররিয়ত নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি। এর আগে ভারতীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ও কাশ্মিরের স্বাধীনতার ডাক দিয়ে পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
গিলানির ওই পাঁচ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ভারতীয় নৃশংসতার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মিরের নাগরিকদের সাহসিকতার সাথে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ, নিজেদের আত্মরক্ষার্তে সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশের প্রতিবাদ, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কাশ্মিরিদের দূত হিসেবে কাজ করা, কাশ্মিরিদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রতিবেশী পাকিস্তানের এগিয়ে আসা এবং জম্মু ও লাদাখের বাসিন্দাদের নিজস্ব পরিচয় ধরে রাখা।
এদিকে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার প্রায় দুই মাস পর জম্মুর গৃহবন্দী সব রাজনীতিককে মুক্তি দিয়েছে ভারতীয় প্রশাসন। কিন্তু কাশ্মির উপত্যকার রাজনীতিকদের বন্দিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের দেভেন্দ্রর রানা এনডি টিভিকে বলেছেন, ‘আমার চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না বলে গত সন্ধ্যায় এক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন।’ জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে একে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরই রাজ্যটিকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী করে ফেলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর অংশ হিসেবেই জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহ ও ফারুক আবদুল্লাসহ প্রায় ৪০০ রাজনীতিককে আটক অথবা গৃহবন্দী করা হয়।
এদিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর গত দুই মাসে কাশ্মির থেকে ১৪৪ শিশুকে আটক করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ৯ থেকে ১১ বছর বয়সী ওই শিশুদের বিভিন্ন হোমে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিশেষ কমিটিকে জম্মু-কাশ্মির প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমনটি জানানো হয়েছে। তবে এদের কাউকেই বেআইনিভাবে আটক করা হয়নি বলে দাবি সরকারের। রাজ্য প্রশাসনের যুক্তি, পাথর ছোড়া, দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধানো এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টে যুক্ত থাকায় আটক করা হয়েছে ওই শিশুদের।
গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করে জম্মু-কাশ্মির এবং লাদাখ, দু’টি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সেই থেকে উপত্যকার সাথে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গোটা ভারতসহ গোটা বিশ্বের। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং সমাজসেবামূলক সংগঠনের পক্ষ থেকে দমন-পীড়নের অভিযোগ তোলা হয়। এই দমননীতি থেকে শিশুদেরও ছাড় দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওঠে নানা মহল থেকে।
এমন অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন সমাজকর্মী এনাক্ষী গঙ্গোপাধ্যায় এবং শান্তা সিংহ। তাদের অভিযোগ, উপত্যকায় বেআইনিভাবে ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে আটক করছে নিরাপত্তাবাহিনী। সমাজকর্মীদের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জম্মু-কাশ্মির হাইকোর্টের জুভেনাইল জাস্টিস কমিটিকে নির্দেশ দেন শীর্ষ আদালত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button