sliderস্থানিয়

সিন্দুরমতির তীর্থধামের ঐতিহ্যবাহী পুকুর খননে মিলল শতবর্ষের ইতিহাস

এ আর লিমন,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : সিন্দুরমতির তীর্থধামের ঐতিহ্যবাহী পুকুর খননে মিলল শতবর্ষের ইতিহাস মাটির গভীর থেকে উদ্ধার প্রাচীন মূর্তি ও পুরোনো নিদর্শন,এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি লক্ষ্মীকান্ত রায় সত্যজিৎ :

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি তীর্থধামের পুকুর খননের সময় উদ্ধার হয়েছে প্রাচীন যুগের মূল্যবান নিদর্শন। মাটির গভীর থেকে বেরিয়ে আসে ধাতব তৈরি দৃষ্টিনন্দন একটি প্রাচীন মূর্তি ও কয়েকটি মাটির তৈরি পুরোনো পাত্র। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন ঘটনাস্থলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা সিন্দুরমতির ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। কয়েকদিন ধরে খনন কাজ চলাকালে হঠাৎ করেই শ্রমিকদের যন্ত্রে শক্ত কোনো ধাতব বস্তুর আঘাত লাগে। পরে সতর্কতার সঙ্গে মাটি সরিয়ে একটি প্রাচীন ধাতব মূর্তি উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটির সঙ্গে আরও পাওয়া যায় কয়েকটি মাটির তৈরি ছোট পাত্র ও পুরোনো সামগ্রী।

উদ্ধার হওয়া মূর্তিটিতে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও প্রাচীন শিল্পরীতির ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি শতবর্ষ পুরোনো কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা তীর্থস্থানের স্মৃতিচিহ্ন হতে পারে। বিশেষ করে মূর্তির অলংকার, মুখাবয়ব ও নকশা দেখে অনেকে এটিকে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে মনে করছেন।

পুকুর খননকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক বলেন, “আমরা নিয়মিত মাটি কাটছিলাম। হঠাৎ করেই মেশিনে ধাতব কিছুর শব্দ পাই। পরে ধীরে ধীরে মাটি সরিয়ে এই মূর্তিটি বেরিয়ে আসে। এমন জিনিস আমরা আগে কখনো দেখিনি।”

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, বহু বছর আগে সিন্দুরমতি এলাকা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। তাদের পূর্বপুরুষদের মুখে শোনা যায়, এখানে একসময় তীর্থস্থান ও পূজামণ্ডপ ছিল, যা সময়ের ব্যবধানে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানের এই আবিষ্কার সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসেরই ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন তারা।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে নানা আলোচনা করছেন। স্থানীয় শিক্ষিত ও সচেতন মহল মনে করছেন, যথাযথ গবেষণা করা হলে সিন্দুরমতি তীর্থধাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, উদ্ধার হওয়া নিদর্শনগুলো দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নেওয়া হোক। পাশাপাশি সঠিক তদন্ত ও গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটনের দাবি জানান তারা। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের উদ্যোগে এই স্থান সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষায়,“সিন্দুরমতির মাটির নিচে শুধু পুকুর নয়, লুকিয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার স্মৃতি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button