উপমহাদেশশিরোনাম

১৭ ঘণ্টা পর পানিতে আটকে পড়া ট্রেনের যাত্রীদের উদ্ধার

রেললাইন দেখা যাচ্ছে না। প্রবল বৃষ্টিতে চলে গিয়েছে পানির নিচে। আর তাই আটকে পড়েছে একটি ট্রেন। ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ওয়াঙ্গানির কাছে সেই কোমর পানিতে আটকে যাওয়া ১০৫০ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পার।
শুক্রবার রাতে আটকে পড়েছিল মুম্বই-কোলাপুর মহালক্ষ্মী এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেন। মুম্বাই থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি পানির কারণে আর এগোতে পারেন। কোন স্টেশন ছাড়া এমন এক জায়গায় ট্রেনটি থেমেছিল যেখানে যাত্রীদের নেমে যাওয়ার মতো কোন জায়গা নেই। আবার চারদিকে কোমর সমান পানি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। সেই সাথে ঘিরে ধরে আতঙ্ক।

প্রায় ১৭ ঘণ্টা আটকে থাকার পরে শনিবার পানিবন্দী ওই ট্রেন থেকে উদ্ধার করা হয় ১০৫০ জন যাত্রীকে। তাদের মধ্যে ন’জন সন্তানসম্ভবা। ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, পুলিশ ও রেল পুলিশ মিলে দীর্ঘ এই অভিযান পরিচালনা করে।
প্রবল বৃষ্টিতে বেড়েছে উলহাস নদীর পানিরস্তর। সেই পানি উঠে এসেছে রেললাইনে। সেই কারণে শুক্রবার রাতে বদলাপুর এবং ওয়াঙ্গানির মাঝখানে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে মহালক্ষ্মী এক্সপ্রেস। জায়গাটি লোকালয় থেকে বেশ খানিকটা দূরে। রাতে বিশেষ কিছু নজরে আসছিল না। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই নিজেদের দুর্ভোগের ভিডিয়ো মোবাইলে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সাহায্যের আবেদন জানান।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার ছাড়াই বহুক্ষণ তাদের ট্রেনের মধ্যে বসে থাকতে হয়েছে। তারা ট্রেন থেকে নামতেও পারছিলেন না। কারণ ট্রেনের বাইরে কোমর সমান পানি। টুইট করে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামতে বারণ করে ভারতীয় রেলওয়ে। যাত্রীদের তারা বলে, ট্রেন থেকে নীচে নামবেন না। ট্রেনই সব থেকে নিরাপদ জায়গা। ট্রেনের মধ্যে থেকেই সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করুন।
যাত্রীদের আটকে থাকার খবর পেয়ে প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ। আটকে পড়া যাত্রীদের তারা বিস্কুট এবং পানি দেন। এর পরে উদ্ধার কাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় বিমান বাহিনীর দু’টি বিমান।
সারারাত ট্রেনের মধ্যেই কাটে যাত্রীদের। শনিবার দিনের আলো ফুটতে দেখা যায়, চার দিকে শুধু পানি আর পানি। সুতোর মতো জেগে আছে ট্রেনটি।
একযোগে উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ কয়েকটি ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা। আটটি নৌকার সাহায্যে ট্রেনের কাছে গিয়ে নামিয়ে আনা হয় যাত্রীদের। প্রায় ১৭ ঘণ্টা আটকে থাকার পরে শনিবার বিকেল তিনটের দিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় ট্রেনের সব যাত্রীকে।

ভারতের সেন্ট্রাল রেলওয়ের মুখপাত্র সুনীল উদাসি জানিয়েছেন, এক হাজার ৫০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠানো হয়েছে। পাঠানো হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও ৩৭ জন চিকিৎসক যাদের মধ্যে আছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞও।
যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কল্যাণ থেকে কোলাপুর যাবে ট্রেনটি। উদ্ধার হওয়া নয় জন সন্তান সম্ভবাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই নয় জন সন্তানসম্ভবা এবং এক মাস বয়সী একটি মেয়ে ভাল আছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ টুইট করে উদ্ধারকারী দলের প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button