ডোকলামে আবারো সড়ক-হেলিপোর্ট বানাচ্ছে চীন : শঙ্কায় ভারত

দুই বছর আগে ডোকলামে সড়ক নির্মাণ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের দিকে অস্ত্র তাক করে অবস্থান করছিল দুই দেশের সামরিকবাহিনী। ভারত সে সময় দাবি করেছিল চীন সে সড়ক নির্মাণ করে আইন লঙ্ঘন করছে। চীন তাদের সে কথায় কোনো পাত্তা দেয়নি। পরে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল সেই সংঘাতের।
এবার ভারত দাবি করছে ডোকলামের দিকে আবারো এগিয়ে আসছে চীন। সেই ডোকলামের কাছাকাছি জায়গায় তারা রাস্তা ও হেলিপোর্ট নির্মাণ করছে। স্যাটেলাইট ইমেজের ওপর ভিত্তি করে ভারত এ অভিযোগ করছে।
দ্য প্রিন্ট-এ প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ভুটানের পশ্চিমাংশের মালভূমি অঞ্চল ডোকালাতে আবারও চীন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। চীনের সেনাবাহিনীকেও সেখানে টহল দিতে দেখা গিয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে পুরো দৃশ্যটি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এতে দেখা যায়, এবার রাস্তার পাশাপাশি হেলিপোর্টও তৈরি করছে চীন। বিষয়টি নিয়ে আবারো শঙ্কা দেখা দিয়েছে ভারতীয় শিবিরে।
দ্য প্রিন্টের স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ডোকলামে চীন ফের রাস্তা তৈরি করছে এবং সেনাদের কড়া টহলদারি চলছে। ইয়াটং ও টিসোনা সেক্টরে পিপল’স লিবারেশন আর্মিকে দেখা গিয়েছে। ওই সেক্টরে হেলিপ্যাড তৈরির কাজও করা হচ্ছে বলে দেখা গিয়েছে স্যাটেলাইট ছবিতে।
২০১৭ সালে ৭২ দিন ধরে ডোকালার ট্রাইজংশনে ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছিল চীনের সেনাবাহিনী। পরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। চীনও তখন সড়ক নির্মাণে অটল অবস্থান নেয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। দুই সেনাবাহিনী মিসাইল-ট্যাংকারের মত ভারী অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রায় প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। তবে ৭২ দিন পর বেইজিং ও দিল্লি সীমান্ত থেকে বাহিনী উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারত দাবি করেছিল, শিলিগুড়ি করিডরে ঢোকার কৌশল হিসাবে বেইজিং ডোকলামে এই রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল, যাতে সহজে তারা ঝামফেরি রিজ হয়ে শিলিগুড়িতে ঢুকতে সফল হয়।




