রাজনীতিশিরোনাম

আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি পূরণে আন্তরিক নয়: হিন্দু মহাজোট

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ ১০০% হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট আশা করলেও নির্বাচনী ইশতেহারে তাদের প্রধান দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি, কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সংগঠনটি মনে করছে আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি দাওয়া পূরণে আন্তরিক নয়; তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে শুধু ক্ষমতায় যাবার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
আজ (শনিবার) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইস্তেহার ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আশা হতাশা ও নির্বচনী ভাবনা তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক উল্লেখ করেছেন, বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠায় আন্তরিকতা দেখায়নি।
এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় হিন্দু মহাজোট জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান। এছাড়া একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের আরেকটি সংগঠন ‘সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ’র সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ রেডিও তেহরানকে বলেন, রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে কে কী বলেছে তার চেয়েও বড় কথা হল সংখ্যালঘু ভোটারগণ তার নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর মধ্যে তাকেই ভোট দেবে যার কাছে তাদের নিরাপত্তা জুটবে এবং ভোটের পরেও এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও তার অতীত-বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত আচার-আচরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
এর আগে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, আওয়ামী লীগসহ দেশের সব রাজনৈতিক দলই প্রায় অভিন্ন সুরে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতল আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বাস্তবায়নসহ পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন।
এ ছাড়াও সিপিবিসহ রাজনৈতিক দলসমূহ আরো অনেক ব্যাপারে সংখ্যালঘুদের সাত দফা দাবির অনেকগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করায় তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সংখ্যালঘুদের এ সংগঠনটি আশা করে- আগামী সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারাই সরকার গঠন করুক বা সংসদের বিরোধী দলের অবস্থান নিক তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি যথাযথ বাস্তবায়নের আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং জনমনে রাজনীতির প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা গড়ে তুলবেন।
পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button