
ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের তাণ্ডবে পুলিশের এক কর্মকর্তা ও এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা মুহাম্মদ আজম খান ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
পুলিশ এ পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হলেও প্রধান অভিযুক্ত উগ্র হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের জেলা আহ্বায়ক যোগেশ রাজকে এখনও পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত যোগেশই থানায় গোহত্যার অভিযোগ জানায় এবং সহিংসতা ছড়াতে ইন্ধন জোগায় বলে পুলিশ মনে করছে।
গতকাল (সোমবার) বুলন্দশহরের স্যানা মহকুমা এলাকায় মাহু গ্রামের বাইরে জঙ্গল লাগোয়া একটি মাঠে গো-হত্যা হয়েছে অভিযোগ করে মৃত গরুর দেহাবশেষ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পুলিশ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার সিংহের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই অবরোধ সরাতে গেলে ক্ষুব্ধ জনতা (স্বঘোষিত গোরক্ষক) ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। মারমুখী জনতা পাথর নিক্ষেপসহ চিংরাবটি পুলিশ ফাঁড়িতে আক্রমণ করে সেখানে ভাঙচুর করে পুলিশ গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় সুমিত কুমার নামে এক বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। অন্যদিকে, জনতার আক্রমণে নিহত হন পুলিশ কর্মকর্তা সুবোধ কুমার সিংহ। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান বলেছেন, ‘যদি পশুহত্যার কোনও ঘটনা ঘটে তাহলে পুলিশকে এটাও তদন্ত করা উচিত সেখানে পশুর দেহাবশেষ কে নিয়ে এসেছিল, কারণ, যে এলাকায় সহিংসতা হয়েছে সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন বাস করে না।’
গোলযোগপূর্ণ এলাকায় পাঁচ কোম্পানি ‘র্যাফ’ ও ছ’কোম্পানি প্রভিন্সিয়াল আর্মড কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশি এফআইআরে হিন্দুত্ববাদী বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতাদের নামও তালিকায় রয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

বুলন্দশহরের জেলা প্রশাসক অনুজ কুমার ঝা বলেন, ওই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র সুনীল কুমার সিং সাজন বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পুলিশকেও হত্যা করা হচ্ছে। ওই দুর্বৃত্তরা সরকারের কাছ থেকে কোথাও না কোথাও সুরক্ষা পাচ্ছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যখনই নির্বাচন সামনে আসে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো হয়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। যদি তাঁরা সরকার না চালাতে পারে, তাহলে ওঁদের ইস্তফা দেয়া উচিত।

এদিকে, উত্তর প্রদশে সরকারের মন্ত্রী ও ‘সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি’র সভাপতি ওমপ্রকাশ রাজভর বলেছেন, ‘এটা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং আরএসএসের ষড়যন্ত্র। এখন তো পুলিশ বিজেপি কর্মীদের নামও অন্তর্ভুক্ত করেছে। মুসলিমদের ইজতেমার (তবলীগী ইজতেমা) দিনেই কেন ওই বিক্ষোভ প্রদর্শন হল? এটা অশান্তি ছড়াবার চেষ্টা।’
অন্যদিকে, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বোন অভিযোগ করেছেন, তাঁর ভাই মুহাম্মদ আখলাক হত্যার তদন্ত করেছেন। এজন্য ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’ বাসায় গোমাংস রাখার সন্দেহে উত্তর প্রদেশের দাদরির বাসিন্দা মুহাম্মদ আখলাককে প্রায় তিন বছর আগে পিটিয়ে হত্যা করেছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা কপিল সিব্বল বলেছেন, ‘রাজ্যকে খেয়াল রাখার পরিবর্তে যোগি (উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ) তেলেঙ্গানাতে বিষ ছড়াচ্ছেন।’ তেলেঙ্গানায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্য বিজেপি নেতারা ঘনঘন রাজ্যটি সফর করে জনসমাবেশে ভাষণ দিচ্ছেন।
পার্সটুডে




