হোয়াটস অ্যাপে কথোপকথন, খুলতে পারে খাশোগি হত্যা জট
সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি নৃশংসভাবে খুন হন তুরস্কে সৌদি আরবের কনস্যুলেটের ভেতরেই। তার প্রকাশিত লেখায় সৌদি রাজতন্ত্র ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেও তা ছিল পরিমিত। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলাম লেখক এ ব্যাপারে কোনো রাখঢাক রাখেননি।
সৌদি সরকারের ভয়ে কানাডাপ্রবাসী সৌদি নাগরিক আবদুল আজিজের সঙ্গে হোয়াটস অ্যাপে খাশোগির কথোপকথন সেরকমই বার্তা দেয়। আর তার এসব বার্তার সূত্র ধরে খুলতে পারে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের জট।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটস অ্যাপে সৌদি থেকে নির্বাসিত ওই অ্যাক্টিভিস্টের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া চার শতাধিক বার্তা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
ওইসব বার্তায় সালমানের বিষয়ে খাশোগি বলেন, তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যে তার পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে- তাকেই তিনি নিশ্চিহ্ন করে দেন। এমনকি ওইসব ব্যক্তি যদি তার সহযোগী কিংবা ঘনিষ্ঠ হলেও ক্ষমা পান না।
সিএনএনের হাতে আজিজ ও খাশোগির মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ওইসব বার্তার মধ্যে ভয়েস রেকর্ডিং, ছবি এবং ভিডিও রয়েছে।
সৌদি রাজতন্ত্রের ক্ষমতাধর যুবরাজ সালমান একজন ব্যক্তিকে কতটা সমস্যায় ফেলতে পারেন বা অনেকই কেমন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তার চিত্র পাওয়া যায় এসব বার্তায়।
সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল আজিজ বলেন, ‘খাশোগিসহ তারা সৌদি রাজতন্ত্রকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করাতে অনলাইনে যুবকদের নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা করছিলেন।’
খাশোগি বিশ্বাস করতেন এর পেছনে সালমানই হলো মূল ইস্যু ও সমস্যা। এই ধাপ্পাবাজকে অবশ্যই থামাতে হবে। কিন্তু চলতি বছরের আগস্টে তারা যখন বুঝতে পারেন তাদের বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ নজরদারি করছে, তখন খাশোগি বিপদের লক্ষণ অনুধাবন করতে পারেন।
খাশোগি তার বন্ধু আবদুল আজিজকে বলেন, ‘ভয় পেও না, আল্লাহ আমাদের পাশে আছে।’
আর এ ঘটনার ঠিক দুই মাস পর সৌদির পাঠানো ১৫ সদস্যের কিলিং স্কোয়াডের হাতে খুন হন খাশোগি।




