খেলা

রেকর্ড করে শেষ আটে ব্রাজিল

দারুণ খেলেছেন, পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। কারণ মেক্সিকোর বিপক্ষে চোখের পলকে গোলকিপার ওচোয়াকে সুযোগ না দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ১-০ গোলের লিড এনে দেন নেইমার। তাতে ব্রাজিলের ইতিহাসের অংশ হলেন নেইমার। ঢুকলেন রেকর্ডের পাতায়। এটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ২২৭তম গোল। এতদিন ২২৬ গোল নিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের মালিক ছিল জার্মানি।
জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেনের বিদায়ে কিছুটা শঙ্কিত ছিল ব্রাজিল। একে একে সতীর্থ চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ে খটকা তো ছিলই। বিশেষ করে বাংলাদেশে ¤্রয়িমান হয়ে যাবে বিশ্বকাপের আমেজ। অবশেষে সব শঙ্কা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়েই ব্রাজিল ২-০ গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে টিকিট পেল রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের। কোয়ার্টারে তাদের সঙ্গী হবে বেলজিয়াম ও জাপানের মধ্যকার জয়ী দল।
এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপুর্ন যেসব ম্যাচে নেইমার গোল করেছেন তার কোনোটি হারেনি ব্রাজিল। আবার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো জেতেনি মেক্সিকো। শুধু তাই নয়, এই আসরের জায়ান্ট কিলার এবং প্রতিভাবান দলটি কোনো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পিছিয়ে পড়ে কখনো জিততে পারেনি। গত ৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বাদ পড়েছে মেক্সিকো। এবারও তাই হলো। ‘কুফা’ শব্দটি থেকে বেরো পারেনি মেক্সিকো। ভলগা নদীর কাছের শহর সামারায় প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। হয়েছে গতির খেলা। প্রথমার্ধে প্রবল গতিতে ঝড়ের মতো আক্রমণে গিয়েই ক্লান্তির মুখে পড়ে মেক্সিকানরা। তাদের ক্লান্ত করেই গোছানো আক্রমণে গেছে ৫বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
দুই দল যথেষ্ট আক্রমণ করলেও গোল পায়নি। তবে প্রথম দশ মিনিট মেক্সিকো যে খেলাটা খেলেছে তাতে অনেকেই মনে করেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেবারিটরা বিদায় নিবে একে একে। নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিতে ব্রাজিলের সময় লাগে ১৫ মিনিট। এরপর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় হাড্ডাহাড্ডি। যাকে বলে আক্রমন ও পাল্টা আক্রমন। ফরোয়ার্ডদের কিছুটা স্বার্থপরতায় বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষনভাগে গিয়ে গোল দিতে ব্যার্থ। অন্তিম মুহুর্তে সতীর্থদের বল না দিয়ে নিজেই গোল করার প্রবনতায় ব্যার্থ। প্রথমার্ধ গোলশুন্য থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল-মেক্সিকো।
বিরতির পর অবশ্য বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলকে। ৪৮ মিনিটে নেইমার চমৎকার একটি সুযোগ তৈরি করে কুতিনহোকে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। এরপর ৫১ মিনিটেই ব্রাজিলের পক্ষে ইতিহাস সৃষ্টি করে গোল আদায় করে নেন নেইমার। তবে পুরো কৃতিত্ব উইলিয়ানের। সারা মাঠ চষে বেড়ানো উইলিয়ান বল নিয়ে একাই ঢুকে পড়েন মেক্সিকোর রক্ষনভাগে। কুতিনহোকে দিলে তিনি ব্যাক পাসে ফের উইলিয়ানকে দিলে তিনি ডি সীমানার বাম প্রান্ত দিয়ে ঢুকে ক্রশ করেন পেনাল্টি সীমানায়। বলে ছোয়া লাগিয়ে চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বারের মতো বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি নেইমার (১-০)।
৬৭ মিনিটে উইলিয়ান একাই বল কাটিয়ে মাইনাস করেন নেইমারকে। তার প্রচন্ড গতির শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মেক্সিকো কিপার ওচোয়া। ৭৪ মিনিটে উইলিয়ানের শট রুখে দেন ওচোয়া। ৮৮ মিনিটে কুতিনহোর বদলি হিসেবে নামা রবার্তো ফিরমিনো গোল করে ব্রাজিলের ব্যাবধান বাড়িয়ে শঙ্কামুক্ত করেন। নেইমার উইলিয়ানের মতো বাম প্রান্ত দিয়ে একই কায়দায় বলসহ ঢুকে পড়েন মেক্সিকোর ডি বক্সে।
একটু সময় নিয়ে দেখেশুনে বলটি মাইনাস করেন ফিরমিনিকে উদ্দেশ্য করে। মাত্র দুই মিনিট আগেই মাঠে নামা ফিরমিনো ডান পা ছুইয়ে গোল করেন। কিপার ওচোয়ার চেয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায় ছিল না (২-০)। ছয় মিনিট ইনজুরি সময় দিলেও মেক্সিকো ব্যার্থ হয় গোল করতে। ফলে দাপট দেখিয়েই রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার নিশ্চিত করলো পাচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button