খেলা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদেরই

স্পোটৃস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নামকরণ হওয়ার পর একটা অভিশাপই হয়তো লেগে গিয়েছিল! কোন দলই টানা দুইবার জিততে পারেনি ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার লড়াইয়ের শিরোপাটা। জিনেদিন জিদানের হাত ধরে গত রাতে সেই অভিশাপ ধুয়ে দিলো রিয়াল মাদ্রিদ। জিদানের নাম আলোচনায় উঠবেই, তবে কাল রাতের নায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জোড়া গোল করেছেন সিআরসেভেন। যাতে জুভেন্টাসকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রথম ক্লাব হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপার স্বাদ পেলো রিয়াল মাদ্রিদ।
কী আশ্চর্য, লা ডেসিমা অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দশ নম্বর শিরোপা জিততে এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদকে। কিন্তু জিনেদিন জিদানের হাত ধরে এগারো ও বারোতম শিরোপা এলো টানা দুই বছরেই! দেড় বছরের মতো হলো রিয়াল মাদ্রিদের কোচের চেয়ারে জিদান, তাতেই দুই দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়!
পুরো মৌসুম জুড়ে দুর্দান্তভাবে পরিচালনা করেছেন রিয়াল মাদ্রিদকে। গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর জন্য সেরা ফুটবলারদের বিশ্রামে রেখেছেন। ফলে লিগের শেষ ভাগে এসেও তরতাজা রোনালদোরা। গতকাল ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিল হয়তো এটাই! ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে এবারের মৌসুমে অনেক কম খেলিয়েছেন জিদান। গতকাল পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়াতে পাড়লেন হয়তো সে কারণেই। একদিন আগেও রোনালদো বলেছিলেন যে কোন মৌসুমের চেয়ে ভালো বোধ করছেন এবারের শেষ দিকে এসে।
গতকাল ম্যাচের পার্থক্যও গড়ে দিয়েছেন রোনালদো। ২০ মিনিটে দানি কারবাহালের কাছ থেকে বল পেয়ে মাপা এক জোড়ালো শটে রিয়াল মাদ্রিদকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন পর্তুগাল অধিনায়ক। সাত মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফিরে জুভেন্টাস। জুভাদের সমতায় ফেরানো মারিও মানজুকিচের এই গোলটা হয়তো ‘সেরা গোলের’ প্রতিযোগিতাতেও থাকছে এবার।
ডি-বক্সের ভেতরে গঞ্জালো হিগুয়েইনের পাস বাক দিয়ে নামিয়ে অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিক, গোল। এই অসাধারণ মুহূর্ত পরে আর টেনে আনতে পারেনি জুভেন্টাস। প্রথমার্ধ অবশ্য ১-১ গোলের সমতাতেই শেষ হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকে আক্রমণের পর আক্রমণে জুভেন্টাসের শক্ত রক্ষণভাগের নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছেন রোনালদো-বেনজেমা-কারবাহালরা।
৬১ মিনিটে তারই ফল হিসেবে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল। কাসেমিরোর ওই গোলে অবশ্য স্যামি খেদিরার অবদানও আছে। জুভেন্টাস ডিফেন্ডারের পা ছুঁয়েই জালো জড়িয়ে যায় কাসেমিরোর শট। এর তিন মিনিট পর ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন রোনালদো। ডান দিক থেকে লুকা মডরিচের কাছ থেকে বল পেয়ে দারুণ দক্ষতায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন রোনালদো, ৩-১।
এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না জুভেন্টাসের। পারেওনি ইতালির ক্লাবটি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আরও একটি গোল করে ব্যবধানটা ৪-১ করেছেন মার্কো এসেনসিও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button