
ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
ক্ষতিকারক কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো ১১শ’ মণ আম জব্দ করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিএসটিআই’র সহযোগিতায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল শনিবার মিরপুর-১ নম্বরের মাজার রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ আম জব্দ করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব আম ধ্বংস করে।
এদিকে এ অভিযানের সময় কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকানোর অপরাধে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ফয়সাল আহমেদ, নুরুল, তাবারুল, রমজান আলী, আবদুস সোবহান ও মনিরুল ইসলাম। দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে তাদের এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়িতে এক হাজার মণ আম ও ৪০ মণ খেজুর এবং গত মঙ্গলবার কাওরান বাজারে রাসায়নিকে পাকানো ৬০০ মণ আম জব্দ করে। পরে সে আমগুলোও প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, অভিযান পরিচালনা কালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা হতে অপরিপক্ব কাঁচা আম এনে ঝুড়িতে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকারক ইথোফেন, কার্বাইড ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান দিয়ে পাকানো হচ্ছে। এছাড়াও ক্ষতিকারক অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান দিয়ে দ্রবণ তৈরি করে আমের ঝুড়িতে স্প্রে করা হয়, যাতে করে আম ২/১ দিনের মধ্যে পুরোপুরি হলুদ রং ধারণ পূর্বক পেকে যায়। যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত হানিকর। অথচ এ সমস্ত রাসায়নিক বোতলের গায়েই লেখা রয়েছে ফল পাকানোর কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ সময় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারে আম এনে বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় এবং ১৪টি আড়তের আম জব্দ করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আরো জানান, ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী অন্তত ১০ দিন পর আম পাকতে শুরু করবে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা তার আগেই রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব আম পাকাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এই আম মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি। উল্লেখ্য, ইথোফেন দেওয়া ফল খেলে পেটের পীড়া ও চর্মরোগসহ দীর্ঘমেয়াদি অসুখ হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
র্যাব সূত্র জানায়, গত ১৭ মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ফলের আড়তে কেমিক্যাল দিয়ে অপরিপক্ব আম পাকানোর দায়ে নয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ সময় এক হাজার মণ অপরিপক্ব আম ও ৪০ মণ নষ্ট খেজুর ধ্বংস করা হয়েছে। কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকানোর দায়ে যাত্রাবাড়ির আশা বাণিজ্যালয়ের লুত্ফর রহমান ও জাকির হোসেনকে এক বছর, মোস্তফা এন্টারপ্রাইজের মোস্তফা ও সাতক্ষীরা বাণিজ্যালয়ের ইয়াসিনকে ছয় মাস, এসআলম বাণিজ্যালয়ের মিঠুন সাহাকে দুই মাস, অমিউর ট্রেডার্সের রণজিত রাজবংশীকে তিন মাস, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের শহিদুল আলমকে দুই মাস ও অপর একটি প্রতিষ্ঠানের মেহেদী হাসান ও রেজাউলকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপর দিকে গত ১৫ মে অপর কাওরানবাজারে ফলের আড়তে সকাল সোয়া ৭টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে। এ সময় কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো প্রায় ৬০০ মণ আম, পেঁপে, কলা জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত ফল ধ্বংস করা হয়। ওই দিন অভিযানে ফল ব্যবসায়ী মোঃ কামাল, মোঃ টিটু খান, মোঃ লিটন, জাহিদ হাসান, নুরুল আলম, মোঃ হাবিব দেওয়ানকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং মোঃ হযরত আলী এবং এমদাদুল হক মিলনকে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ইত্ত্ফোক



