ফুলেল সাজে-সজ্জিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

আদিব হোসাইন
আম্মু বলে পড়রে সোনা/আব্বু বলে মন দে/ পাঠে আমার মন বসে না/কাঁঠালচাঁপার গন্ধে।’এমনটাই বলেছেন কবি আল মাহমুদ। ফুল পবিত্রতা ও সৌন্দর্য্যরে প্রতীক। কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে এমন কোনো মানুষ নেই যারা ফুলকে ভালোবাসে না।
রংপুর শহরের প্রবেশদ্বার মডার্ণমোড় থেকে হাফ কিলোমিটার উত্তরে রংপুর ক্যাডেট কলেজ ও কারমাইকেল কলেজের মধ্যবর্তী পার্কের মোড় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অতিক্রম করলেই সামনে পড়বে প্রশাসনিক ভবন এবং ক্যাফেটেরিয়ার সামনে চোখ রাখলেই মনে হবে এ যেন ফুলের এক স্বর্গরাজ্য। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর দিকে তাকালেই মন ভরে যায়। প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে, লাখে লাখে, স্তবকে স্তবকে ফুল ফুটে আছে। কোনটা গোলাপী, কোনটা ফুল শ্বেত, কোনটা যেন রক্তমাখা, আবার কোনটা যেন হলুদ। এ ফুলের মাঝেই কোথাও মৌমাছি, কোথাও ভ্রমর বাসা বেধেঁছে। বাতাসের সঙ্গে মন মাতানো ফুলের ঢেউ এবং সুরভীতে ছন্দময় হয়ে ওঠেছে বেরোবির মনমাতানো পরিবেশ। তার মাঝে আবার বৃক্ষের সবুজ রঙের সমারহ।
ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আড্ডায় মাতেন প্রশাসনিক ভবনের সামনের ফুলের বাগানে। আড্ডার খোরাক যোগাতে বাগানে ফোটা নানা রঙের ডালিয়া, সূর্য্যমুখী আর গাঁদা ফুলের জুড়ি মেলা ভার। এখানকার রক্ত রাঙা ডালিয়া ফুলগুলো যে কারও নজর কাড়বে সন্দেহ নেই। বন্ধুরা মিলে ফুলকে সঙ্গী করে গ্রæপ ছবিও তুলতে দেখা যায়।
নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র নয় বছর হলেও সামগ্রিক বিষয়ে অগ্রগতি অনেকটা লক্ষ্য করার মতো। যদিও পূর্বের উপার্চাযের আমলে অনেক বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে কাজের প্রয়োগ তেমন দেখা যায়নি। তবে বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর থেকে নানামূখী কর্মসূচী হাতে নিয়েছে এবং তার বাস্তবায়নও লক্ষ্য করার মতো। তারই অংশ হিসেবে উপাচার্য মহোদয়ের পরামর্শক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো ক্যাম্পাসটিকে ফুলে ফুলে শোভিত করার পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।
উপাচার্য মহোদয়ের একান্ত সহকারী আমিনুর রহমান জানান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ ক্যাম্পাসের শোভা বর্ধন করতে ফুল চাষে বেশ আগ্রহী। ক্যাম্পাসের শোভা বর্ধন করার জন্য প্রতি বছর একটা বাজেট থাকলেও তা সেভাবে কাজে লাগানো হয়না। তাই বর্তমান উপাচার্য মহোদয় পুরো ক্যাম্পাসটিকে ফুলে ফুলে শোভিত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুলের গাছ লাগানোর কাজ শুরু করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন আবাসিক হল শহীদ মুখতার ইলাহী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল,কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সমারহ সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার দুধারে প্রায় (১৫-২০) প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোঃ গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, উপাচার্য মহোদয়ের পরামর্শক্রমে ক্যাম্পাসকে ফুলেল সাজে সজ্জিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাঁদা,জবা,সূর্য্যমুখীসহ নাম না জানা প্রায় (১৫-২০) প্রজাতির শীতকালীন ফুল লাগানো হয়েছে এবং এর পাশাপাশি কিছু পারমানেন্ট ফুলের গাছও লাগানো হচ্ছে যাতে করে পরবর্তীতে সেই জায়গাগুলো সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এতে ব্যয় হবে আনুমানিক এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা।
ফুল ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তাই কবি বলেছিলেন ‘জোটে যদি মোটে একটি পয়সা খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি,দুটি যদি জোটে তবে একটিতে ফুল কিনে নিও হে অনুরাগী।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন কম হলেও পুরো ক্যাম্পাসে ফুলের গাছ লাগানোর কারণে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী জাকির।
আরেক শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, রংপুর অঞ্চলের অন্যতম বিদ্যাপীঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য বর্তমান উপাচার্য মহোদয় যে মহতি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
ফুল শব্দটি পবিত্রতার প্রতীক। ভালোবাসার মানুষটিকে ফুল উপহার দিতে কে না পছন্দ করে! রাজ্যের যত গøানি সবে তো পৌষ, তাতেই ফুলের এতো বাহার। শীতের শেষে আসছে বসন্ত। ফুলে ভরা ক্যাম্পাসটা আরও রঙিন হবে। রাঙ্গিয়ে দেবে সবার মন। ফুলে ফুলে ভরে যাক সবার জীবন। এটাই কামনা।




