৬ শ’ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গেছে ব্রিটেন

ব্রিটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ দেশটির সাড়ে ৬শ’ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হাউস অব লর্ডস এর নতুন ব্ল্যাক রড হিসেবে শুক্রবার সারাহ ক্লার্কের নিয়োগ অনুমোদন করেছেন। ১৩৬১ সালে ব্রিটেন সৃষ্টির পর থেকে এ পদে ৬০ জন দায়িত্ব পালন করেন। এদের সকলেই পুরুষ ছিলেন।
ক্লার্ক আগামী বছরের শুরুতেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদের দায়িত্ব নেবেন। তিনি বর্তমান ব্ল্যাক রড ডেভিড লিকির স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। এ বছরের শেষে তিনি এ পদ ছাড়ছেন। ব্ল্যাক রড হিসেবে ক্লার্কের অন্যতম দায়িত্ব হবে রাণীর পার্লামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য হাউস অব কমন্স থেকে আইনপ্রণেতাদের হাউস অব লর্ডস এ ডাকা।
ক্লার্ক বর্তমানে বার্ষিক উইম্বলডন টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ সংস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি চারটি অলিম্পিক গেমস, লন্ডন ম্যারাথন ও ইউকে স্পোর্টস’র দায়িত্ব পালন করেন।
ব্রিটেনে কারা হামলা চালাচ্ছে মুসলিমদের ওপর?
ব্রিটেনে মুসলিমবিরোধী আক্রমণ ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রিটেনভিত্তিক মুসলিমবিরোধী কর্মকাণ্ড মনিটরিং সংস্থা ‘টেল মামা’র প্রকাশিত নতুন এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। এসব আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছে মূলত মুসলিম নারীরা। মোট ৬৪২টি হামলার ঘটনার ৫৬ শতাংশই মুসলিম নারীদের ওপর ঘটেছে।
হামলাকারীদের মধ্য ৬৬ শতাংশই ছিল পুরুষ এবং তাদের মধ্য ৬৯ শতাংশই শ্বেতাঙ্গ। হামলার শিকাররা বিভিন্ন জাতিগত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। যদিও সব মুসলিম নারীই তাদের পোশাক পরিধানের কারণে হামলার শিকার হয়নি। তবে হিজাব, ভেইল, বোরখা এবং অন্যান্য পোশাক পরিহিত নারীরাই আনুপাতিক হারে ইসলামোফোবিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একটি জাতিগত সংখ্যালঘু ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা নারী ও মুসলিমরা ইসলামোফোবিয়ার একটি ‘অন্তর্দেশীয় প্রকৃতির’ একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
ইইউ গণভোটের পরের সপ্তাহগুলোতে সেখানে মুসলিমবিরোধী আক্রমণ ৪৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় বলে দ্য চ্যারিটির এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল। এ ছাড়াও লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজে হামলার পরেও মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পায়। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের (এমসিবি) সহকারী জেনারেল মিখাদাদ ভারসি বলেন, ‘ইসলামোফোবিয়ার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে মুসলিমদের নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু মিডিয়ার নেতিবাচক খবর।’
ব্রিটেনে বেশির ভাগ মুসলিমবিরোধী হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ পুরুষ
ব্রিটেনে মুসলিমবিরোধী আক্রমণ ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রিটেনভিত্তিক মুসলিমবিরোধী কর্মকাণ্ড মনিটরিং সংস্থা ‘টেল মামা’র প্রকাশিত নতুন এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। এসব আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছে মূলত মুসলিম নারীরা। মোট ৬৪২টি হামলার ঘটনার ৫৬ শতাংশই মুসলিম নারীদের ওপর ঘটেছে।
হামলাকারীদের মধ্য ৬৬ শতাংশই ছিল পুরুষ এবং তাদের মধ্য ৬৯ শতাংশই শ্বেতাঙ্গ। হামলার শিকাররা বিভিন্ন জাতিগত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। যদিও সব মুসলিম নারীই তাদের পোশাক পরিধানের কারণে হামলার শিকার হয়নি। তবে হিজাব, ভেইল, বোরখা এবং অন্যান্য পোশাক পরিহিত নারীরাই আনুপাতিক হারে ইসলামোফোবিক হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একটি জাতিগত সংখ্যালঘু ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা নারী ও মুসলিমরা ইসলামোফোবিয়ার একটি ‘অন্তর্দেশীয় প্রকৃতির’ একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
ইইউ গণভোটের পরের সপ্তাহগুলোতে সেখানে মুসলিমবিরোধী আক্রমণ ৪৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় বলে দ্য চ্যারিটির এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল। এ ছাড়াও লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজে হামলার পরেও মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পায়। মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের (এমসিবি) সহকারী জেনারেল মিখাদাদ ভারসি বলেন, ‘ইসলামোফোবিয়ার একটি প্রধান কারণ হচ্ছে মুসলিমদের নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু মিডিয়ার নেতিবাচক খবর।’
ব্রিটেনে মন্ত্রী-এমপিদের যৌন কেলেঙ্কারির নানা কাহিনী
ব্রিটেনে পার্লামেন্ট সদস্য এবং মন্ত্রীদের হাতে বিভিন্ন সময় যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ শুরু হয়েছে। ব্রিটেনের পত্রিকাগুলো এখন প্রতিদিনই এ নিয়ে নানা রকম খবর ছাপছে।
জানা যাচ্ছে যে, যাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠছে তার মধ্যে কনসারভেটিভ এবং লেবার উভয় দলেই সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী-এমপিরা রয়েছেন। কমন্স লিডার এ্যান্ড্রেয়া লিডসম বলেছেন, ক্যাবিনেট অফিস সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত করছে এবং গুরুতর অভিযোগগুলো পুলিশের কাছে তোলা উচিত।
প্রথমে খবর বেরোয় যে পার্লামেন্টের গবেষক ও সহকারীরা একটি গহোয়াটসএ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে প্রধান দুই দলেল এমপিদের খারাপ ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য বিনিময় করছেন। এর পর দি টাইমস রিপোর্ট করে যে একজন মন্ত্রীসহ চারজন এমপি বহুদিন ধরে ওয়েস্টমিনস্টারে তরুণীদের যৌন হয়রানি করে আসছেন।
একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি তার সহকারীকে ‘যৌন খেলনা’ কিনে আনতে বলেছিলেন।
আরেকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ১৯ বছর বয়স্ক এক তরুণীর সাক্ষাতকার নেয়ার পর তাকে আদিরসাত্মক মেসেজ পাঠান এবং তাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।
এর মধ্যে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার মাইকেল ফ্যালন সান পত্রিকার কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি সাংবাদিক ও রেডিও উপস্থাপিকা জুলিয়া হার্টলি-ব্রুয়ারের হাঁটু অশোভনভাবে স্পর্শ করেছিলেন।
কয়েকজন বলেছেন, এসব ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করলেও কোন ফল হয়নি।
এন্ড্রেয়া লিডসম স্বীকার করেছেন যে এসব অভিযোগ আমলে নেয়ার বর্তমান পদ্ধতি যথেষ্ট নয়।
এসব ঘটনার রিপোর্ট বেরুনোর পর পার্লামেন্টের স্পিকার জনি বারকো ও লেবার নেতা জেরেমি করবিনসহ সিনিয়র রাজনীতিবিদরা এর তীব্র নিন্দা জানান। এ নিয়ে ব্রিটেনের পত্রিকাগুলোয় ব্যাপক লেখালিখি হচ্ছে।
দৈনিক টেলিগ্রাফ শিরোনাম করে, এই যৌন কেলেঙ্কারি এমপিদের টাকা খরচ নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছিলো – তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। লন্ডনের মেট্রো পত্রিকায় শিরোনাম করেছে ‘পেস্টমিনস্টার ক্র্যাকডাউন’ – অর্থাৎ যৌন-কীটদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। টাইমস শিরোনাম করেছে যে এর ফলে কিছু মন্ত্রী বরখাস্ত হতে পারেন।
সূত্র : বিবিসি




