
দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী হাসান ওয়ালটন-ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। কৃষি বিষয়ে ‘যেভাবে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ কৃষি’ শীর্ষক রিপোর্টের জন্য তিনি এ পুরস্কার পান। পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র দেয়া হয়।
দৈনিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন মিডিয়ার মোট ২৬ জন সাংবাদিককে অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রভৃতি ২৬টি ক্যাটগরিতে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য এ বছর পুরস্কার দেয়া হয়।
সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম প্রধান অতিথি হিসেবে সাংবাদিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ডিআরইউ ১৯৯৬ সাল থেকে এ পুরস্কারের আয়োজন করে আসছে।
সংবাদপত্র থেকে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য নয়া দিগন্ত ছাড়া আর যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন শিক্ষা ক্যাটাগরিতে কালের কণ্ঠের শরীফুল আলম সুমন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সমকালের আবু সালেহ রনি, অবজেকটিভ ইকোনমিতে আমাদের সময়ের রুমানা রাখি, নগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে ডেইলি স্টারের হেলিমুল আলম, অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জনকণ্ঠের বিকাশ নারায়ণ দত্ত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে জনকণ্ঠের ওয়াজেদ হীরা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে প্রথম আলোর শরিফুজ্জামান পিন্টু, বৈদেশিক সম্পর্কে ডেইলি স্টারের পরিমল পালমা, ক্রীড়ায় যুগান্তরের শিপন হাবিব, স্বাস্থ্য খাতে আলোকিত বাংলাদেশের নেসার উদ্দীন আহাম্মদ, রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থায় ডেইলি স্টারের শাখাওয়াত লিটন, ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিতে কালের কণ্ঠের আজিজুল পারভেজ, আার্থিক খাতে আমাদের সময়ের হারুন-অর-রশিদ, নারী ও শিশু অধিকারে ভোরের কাগজের এস এম মিজান।
টেলিভিশন থেকে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন অর্থনীতি বিষয়ে যমুনা টিভির অপুর্ব আলাউদ্দীন, নগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে মাছরাঙা টিভির মাজহারুল ইসলাম, অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলায় চ্যানেল ২৪-এর রাশেদ নিজাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে এনটিভির এম এম ইসলাম (মহিদুল), ক্রীড়ায় মাছরাঙা টিভির ফারিয়া আফসানা, সুশাসন ও দুর্নীতিতে মাছরাঙা টিভির বদরুদ্দোজা বাবু, মানবাধিকারে এনটিভির শফিক শাহিন, স্বাস্থ্যে যমুনা টিভির জিএম ফয়সাল আলম।
অনলাইন মাধ্যম থেকে মানবাধিকার বিষয়ে জাগো নিউজের শাহেদ শফিক, উন্নয়ন ও সম্ভাবনায় পরিবর্তন ডটকমের আবু হানিফ রানা পুরস্কার পেয়েছেন।
রেডিও বিভাগ থেকে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন বিবিসির আহরার হোসেন।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার, ডিআরইউ সভাপতি জামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ওয়াল্টনের নির্বাহী পরিচালক এস এম জাহিদুর রহমান ও অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইচটি ইমাম সাংবাদিকতা পেশার মান উন্নয়নে সাংবাদিকদের অধিকতর সতর্কতা এবং সত্যনিষ্ঠ হওয়ার আহবান জানান। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য তিনি যেকোনো সংবাদ পরিবেশনের আগে তা ভালো করে যাচাই বাছাইয়ের পরামর্শ দেন।
সাংবাদিকদের পুরস্কার অনুষ্ঠানে সহযোগিতার জন্য তিনি ওয়ালটন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি নিজেও ওয়ালটন পন্যের একজন ভক্ত এবং আমার ঘরে যত ফ্রিজ আছে তা সবই ওয়ালটনের।
অনুষ্ঠানে জুরি বোর্ডের সদস্য ও পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভঅপতি শফিকুর রহমান, জুরি বোর্ডের সদস্য দৈনিক প্রথম আলোর অ্যাসোসিয়েট এডিটর সোহরাব হাসান, মনোয়ার হোসেনসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি মো. জামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।
চলতি বছর কৃষি বিষয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী থানার সোহাগদল গ্রামে।
সেরা রিপোর্ট বাছাই করার জন্য এ বছর জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে ছিলেন ডিআরইউ সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক সোহরাব হাসান, একুশে টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আহসান বুলবুল, পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদুজ্জামান ফারুক, ক্রীড়াজগত সম্পাদক মাহমুদ হোসেন খান দুলাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক শেখ মাহমুদা সুলতানা।
গত বছর শিক্ষা বিষয়ে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য মেহেদী হাসান ডিআরইউ পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ভারতে মাওবাদের উত্থান গ্রন্থসহ তার বেশ কিছু গবেষণা কর্ম রয়েছে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত পিতা।




