মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় ৪৫০ মিটার সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনুমোদিত প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আইটেম বাদ দিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিসিআরআরপি (খএঈজজচ)-এর কোাভিড-১৯ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় দুইজন সচেতন নাগরিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি পৌর প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নলছিটি পৌরসভার ৮ জুন ২০২৬ তারিখের রি-টেন্ডার নোটিশ থেকে জানা যায়, এলজিসিআরআরপি (খএঈজজচ)-এর আওতায় (খএঈজজচ/ঘধষপযরঃু/২০২৪-২৫/ড-০৭) প্যাকেজে নলছিটি পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডে হাইওয়ে-সংলগ্ন আমিনুল ইসলাম তালুকদারের বাড়ি থেকে মিলন জোমাদ্দারের বাড়ি পর্যন্ত, আলমগীর তালুকদারের বাড়ি হয়ে চেইনেজ ০.০০ থেকে ৪৫০.০০ মিটার পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই প্যাকেজের টেন্ডার আইডি ১১৭৮২৬৭। নোটিশ অনুযায়ী টেন্ডার প্রকাশের তারিখ ৯ জুন এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২২ জুন ২০২৬।
তবে বর্তমানে চলমান ওই নির্মাণকাজটির ইতোঃমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার সড়কের ঢালাই সম্পন্ন হলেও তা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রাক্কলনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের বেশকিছু ক্ষেত্রে মিল নেই। প্রাক্কলনে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইটেম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা। চলমান নির্মাণকাজের সঙ্গে প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলনের বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে। প্রাক্কলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও উপকরণের সংস্থান থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
কয়েক দফা হাতবদলের অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়েছে, কাজটি প্রায় ২০ শতাংশ নিম্নদরে ‘সুগন্ধা এন্টারপ্রাইজ’ কার্যাদেশ পাওয়ার পর স্থানীয় দুই ঠিকাদারের কাছে কাজটি হস্তান্তর করেছে। এভাবে কাজটি কয়েক দফা হাতবদল হওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারি কাজ এভাবে হাতবদলের ফলে মূল ঠিকাদার ও বাস্তবে কাজ করা ঠিকাদারের মধ্যে ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব নির্মাণসামগ্রীর মান ও কাজের গুণগত মানের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ
এদিকে অভিযোগকারীরা নলছিটি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, অনিয়মের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ঠিকাদারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়মে সহযোগিতা করছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাদের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেন নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থেকেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
পৌর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি স্থানীয় পৌর প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাদের দাবি, কাজ শেষ হওয়ার আগে প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, নির্মাণসামগ্রীর মান, কাজের পরিমাণ ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরেজমিনে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ মান নিশ্চিত না করে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়বেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। তাই কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পের প্রাক্কলন, টেন্ডার ডকুমেন্ট, কার্যাদেশ, নির্মাণসামগ্রীর মান ও বাস্তবে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ যাচাই করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি জানতে নলছিটি পৌরভবনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনকে পাওয়া যায়নি।
সহকারি প্রকৌশলী মিজানুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজটির তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনের সাথে কথা বলতে বলেন তিনি। পরবর্তীতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হয়ে তিনি তা রিসিভ করেননি।
পৌর প্রশাসক ও নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, “অভিযোগ পেয়ে অমি ওই প্রকল্পের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এসে সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরে সড়কটির ঢালাই দেওয়া হয়েছে।