
রতন রায়হান, রংপুর: ‘মাদককে না বলি, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলি—তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়া গ্রামের তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে জার্সি উপহার দিয়েছে রায়হান কবির মিল্টন।
মন্ডলপাড়ায় স্থানীয় ‘সত্যের সন্ধানে যুব উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’-এর খেলোয়াড়দের হাতে এসব জার্সি তুলে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রায়হান কবির মিল্টনের পক্ষ থেকে খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে এ জার্সি উপহার দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষে আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক, জুয়া, ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অনৈতিক ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্সি উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুবক ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটানো এবং একটি সুস্থ-সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রায়হান কবির মিল্টন বলেন, “মাদককে না বলতে হবে, খেলাধুলাকে হ্যাঁ বলতে হবে। আমাদের তরুণ সমাজই আগামী দিনের শক্তি। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে এখন থেকেই একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ক্যাসিনো বা মাদকের অন্ধকারে নয়, খেলাধুলার আলোয় আমাদের তরুণ সমাজ গড়ে উঠুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, একটি ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বাড়লে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। তাই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
রায়হান কবির মিল্টন আরও বলেন, “আমরা চাই আমাদের এলাকার প্রতিটি মাঠ প্রাণ ফিরে পাক। তরুণরা মাঠে খেলবে, শরীরচর্চা করবে, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে। এতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাই উপকৃত হবে। একটি সুস্থ প্রজন্মই পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে।”
আসন্ন বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট বলতে কেউ নেই। জনগণ যাকে ভালোবাসবে, যিনি মানুষের পাশে থাকবেন এবং জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারবেন, তিনিই নির্বাচনে জয়ী হবেন।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে শুধু পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে জনগণ মূল্যায়ন করবেন না। বরং কে দীর্ঘদিন মানুষের পাশে ছিলেন, কে বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা করেছেন এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন—সেটিই জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন। রায়হান কবির মিল্টনের ভাষ্য, “জনগণের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চাই। নির্বাচনে জয়-পরাজয় জনগণের সিদ্ধান্ত। জনগণ যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই নির্বাচিত করবেন। আমি সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান সময়ে মাদক ও নানা ধরনের অনলাইন-অফলাইন জুয়ার প্রবণতা তরুণদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পেলে তরুণরা অবসর সময় ইতিবাচক কাজে ব্যয় করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগও পাবে। ‘সত্যের সন্ধানে যুব উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’-এর সদস্যরা বলেন, একটি জার্সি শুধু খেলাধুলার পোশাক নয় এটি তরুণদের মধ্যে দলীয় চেতনা, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক মানসিকতা তৈরির প্রতীক হিসেবেও কাজ করতে পারে। তারা নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন, প্রতিযোগিতা এবং তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
স্থানীয়দের মতে, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে ওঠে। বিশেষ করে তরুণদের সঠিক পথে রাখতে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এদিকে জার্সি উপহার দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় তরুণরা। তারা বলেন, খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও উৎসাহ পেলে মাঠমুখী হওয়ার আগ্রহ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানান তারা।
তরুণদের উদ্দেশে রায়হান কবির মিল্টন বলেন, “নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তুলতে হবে। মাদক, জুয়া কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কখনো সুন্দর ভবিষ্যৎ এনে দিতে পারে না। খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই নিজেদের এগিয়ে নিতে হবে। তরুণরা ভালো থাকলে পরিবার ভালো থাকবে, সমাজ ভালো থাকবে, দেশও এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, লোহানীপাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে তরুণদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে তিনি কাজ করতে চান। এলাকার তরুণদের প্রতিভা বিকাশে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।” স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদকমুক্ত ও খেলাধুলাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অন্ধকার থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের আলোয় গড়ে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার, সামাজিক সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।


