sliderস্থানিয়

কাজিপুরে পাটের বাম্পার ফলন, বাড়তি লাভ এনে দিচ্ছে পাটখড়ি

মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: কাজিপুরে অনুকূল আবহাওয়া ও বড় ধরনের বালাইমুক্ত পরিবেশের কারণে এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সময়োপযোগী বৃষ্টিপাত পাটের চমৎকার বৃদ্ধি ও গুণগত মান নিশ্চিত করেছে। চলতি মৌসুমে ক্ষেতে কোনো প্রকার ক্ষতিকর পোকা বা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। উপরন্তু, পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানির সহজলভ্যতা পাট জাগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করে তুলেছে। সময়োপযোগী বৃষ্টিপাতের কারণে পাটের চমৎকার বৃদ্ধি হয়েছে। সোনালী আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ভালো দামে বেশ লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। অনেক ক্ষেত্রে শুধু পাটখড়ি বিক্রির টাকাতেই উঠে আসছে পুরো পাট চাষের খরচ।

সিংড়াবাড়ী গ্রামের কৃষক আলী আজগর জানান, এবার পাটের দাম ভালো। পাশাপাশি প্রতি আঁটি পাটখড়ি আকারভেদে ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাইকারি দরে প্রতি ১০০ আঁটি পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১৯০০ টাকায়। এতে কৃষকেরা নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি অর্থ ঘরে তুলতে পারছেন। রোদে শুকানো পাটখড়ি কিনতে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাড়িতে চলে আসছেন। পূর্বে শুধু জ্বালানি, খেতের বেড়া ও পানের বরজে এটি ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড মিল ও হস্তশিল্পজাত পণ্য তৈরিতে পাটখড়ির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। তবে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারগুলোর কাছে এটি এখনও রান্নার মূল উপাদান। আর্থিক লাভের হিসাব দিয়ে কাজিপুর ইউনিয়নের সাত্তার পাটচাষি জানান, এক বিঘা জমির পাটখড়ি শুকিয়ে বিক্রি করলে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, “চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাটখড়ির ভালো দাম মেলায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। ”সিরাজগঞ্জের রতনকান্দি, নাটুয়ারপাড়া, মেঘাই, ঢেকুরিয়া, সোনামুখী ও জর্জিরা হাটে পাটখড়ি বেচাকেনা হচ্ছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা পাটখড়ি ক্রয় করে নৌকায় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা জানান, এ বছর জেলায় ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পাট চাষ হয়েছে। পার্টিকেল বোর্ড ও হস্তশিল্পের পাশাপাশি পাটখড়ির ছাই প্রিন্টারের কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর বৈশ্বিক চাহিদাও বাড়ছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button