
রতন ঘোষ, কটিয়াদী প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ২৯ জুলাই বুধবার কিশোরগঞ্জ ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের বানিয়াগ্রাম আচমিতা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান হালিমা আক্তার অন্তরা-(২৭)নামে এক নারী। তিনি নরসিংদী জেলার মনোহরদীর উপজেলার বরচাপা ইউনিয়নের বীরমাইজদি গ্রামের মৃত সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
জানা যায়, কটিয়াদী মডেল থানার পিছনে জিল্লু-অন্তরা দম্পতি ভাড়াটে বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় চার বছর বসবাসরত অবস্থায় জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী অন্তরা এবং বাজারের কতক সহযোগী নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাসার, এক অসহায় বৃদ্ধও শারীরিক প্রতিবন্ধী মাহমুদা আক্তার কে সরকারি ভাবে হুইল চেয়ার পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতিবন্দীর বাসার জায়গা প্রতারণাপূর্বক রেজিস্ট্রি মূলে লিখে নিয়ে যায়। এ ব্যপারে মাহমুদার ভাই সাউফুল্লাহ বাদী হয়ে, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর লিগাল এইড অফিস কিশোরগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করে, যার মামলা নং ২৯৩/২৬। গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে লিগ্যাল এইডে মামলার তারিখ থাকায়, সেই মামলার হাজিরা দিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে তার নিহত স্বামী জিল্লুরের ভগ্নিপতি সহ অন্তরা কটিয়াদীতে ফেরার পথে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ জানায় কিশোরগঞ্জ থেকে একটি সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় কটিয়াদী যাওয়ার পথে বিপড়ীত দিক থেকে আসা অজ্ঞাত একটি গাড়ি মারাত্মকভাবে চাপা দেয়। এতে অটো রিক্সায় থাকা অন্তরা গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ ইন চার্জ এবিএম মেহেদী মাসুদ দুর্ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান ঘাতক যানবাহনটি সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে নিহত অন্তরার পরিবার সূত্রে জানা যায় তার স্বামী কটিয়াদী বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান গত মে মাসে রহস্যজনক নিখোঁজ হন। নিখোজের কয়েকদিন পর ১৮ মে কটিয়াদী বাজারের ভোগপাড়া এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে অন্তরার স্বামী জিল্লুর রহমানের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় কটিয়াদী মডেল থানায় মামলা করা হলে ৭২ দিনেও প্রকৃত আসামিকে সনাক্ত করতে না পারায় পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) তদন্ত করছে।
কটিয়াদী পৌর সদরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা এই দম্পতির অকাল প্রয়াণে পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছে তাদের দুই সন্তান -ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সাইমা এবং তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র জিহাদ।



