
পতাকা ডেস্ক : আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জুলাইকে ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই। কারণ বিএনপি-জামায়াত যা চেয়েছে তার থেকে বেশি জুলাই দিয়েছে।
তিনি আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে “জুলাই উত্তর রাজনীতি-গতি ও গত্যন্তর” শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথির বক্তৃতা কালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জুলাই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে জুলাই ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই। বিএনপি বিগত ১৭ বছরে কি চেয়েছিল প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে ফেরা, নেতাকর্মীদের উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন ছাড়াও বিএনপির নেতা কর্মীদের দখল হওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেরানোর জন্য আন্দোলন করেছে অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিএনপির সকল প্রত্যশা পূরণ করেছে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে দখলদারিত্বে এক ধাপ এগিয়ে গেছে ।
অন্যদিকে জামায়াতের দিকে একই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল থেকে সংসদে গিয়েছে, তালাবদ্ধ অফিস খুলে দিয়েছে, ফাঁসির আসামি থেকে মুক্ত হয়ে সংসদ ভবনে গিয়েছে যা তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। তাহলে কেন আজ জামায়াত বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলে ? অন্যদিকে বিএনপি জামায়াতকে রাজাকার বলে ? বিগত দিনগুলোতে কি দুই দলের নেতারা একই সরকারের মন্ত্রী হন নি ! সংসার করেন নি ! তাহলে কেন এক দল আরেক দলকে চান্দাবাজ, রাজাকার বলছে ? কেন জুলাই পরবর্তী রাজনীতিতে কার নেতৃত্বে জুলাই হয়েছে প্রশ্নে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে ? অথচ আমাদের সকলকে তো স্বৈরাচার হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম বলেই জুলাই এসেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্নতার কারণে আমরা জুলাই সনদ ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আমরা একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী তবে আওয়ামীলীগ প্রশ্নে- জুলাই প্রশ্নে এক থাকতেও হবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, ২৮ জুলাই ২০২৪ এ গণভবনে ৩৪ টি শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেখ হাসিনা শান্তনাসূচক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট যদি হাসিনা পালিয়ে না যেতো, আমরা যদি সেদিন হেরে যেতাম তাহলে পরবর্তীতে এই শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে আমাদের সকলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে বাধ্য করা হতো।
৫ মে ২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিলো। কিন্তু ৫ মে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে আলেমদের উপর ক্র্যাকডাউনের পর কোন দলই সেই সহযোগিতার ক্রেডিট বর্ণনা করেন নাই। যেটা ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর যার যার ক্রেডিট নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন। এটাই জগতের নিয়ম। সবাই বিজয়ের বাহাদুরির ভাগ নিতে চায়, পরাজয়ের সময় অবদানের বর্ণনা বা দায় নিতে চায়না বলে মন্তব্য করেন। জুলাই উত্তর রাজনীতিতে তিনটি ইস্যু মুখ্য হয়ে উঠবে বলেও সর্তক করেন যা জুলাই শক্তিগুলোর মধ্যে অনৈক্য, নির্বাচনে বিজয়ী পক্ষগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং পরাজিতদের ফিরে আসা ও ঘুরে দাঁড়ানোর আস্ফালনের মত পরিস্থিতি তৈরি করবে।



