sliderস্থানিয়

দুই বছরেও মেলেনি সংস্কার, ভাঙা সংযোগ সেতুতে দুর্ভোগে বাঘাইছড়ির হাজারো মানুষ

মোঃ আব্দুজ জাহের,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম পাড়া থেকে কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজে যাওয়ার একমাত্র সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খালের ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি মধ্যম পাড়া, মাস্টারপাড়া এবং কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে সেতুটি ধসে পড়লেও এখন পর্যন্ত সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজ ও বাঘাইছড়ি বায়তুল শরফ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেতুটি অচল হয়ে যাওয়ায় অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ, রোগী পরিবহন ও জরুরি সেবা গ্রহণেও স্থানীয়দের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মো. মাহফুজ বলেন, “এই সেতুটিই ছিল আমাদের কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সেতু ভেঙে যাওয়ার পর ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত একটি নিরাপদ সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, “দুই বছর ধরে সেতুটি ভেঙে পড়ে আছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সেতুটি আমাদের আওতাধীন নয়। এটি স্থানীয় পৌরসভা থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব পৌরসভার।”

এলাকাবাসীর দাবি, এটি ওই অঞ্চলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু হওয়ায় দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। তারা উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button