
তৈয়বুর রহমান কিশোর, বোয়ালমারী প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা) আসনের প্রার্থীরা জোরেশোরে তাদের শেষ মুহুর্তের নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সরগরম হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। আওয়ামী লীগের দূর্গ দখলে কোমর বেঁধে নেমেছে বিএনপি জামায়াত। চেষ্টা করছেন আবুল বাশারও। আওয়ামীলীগের অনেক নেতা ও কর্মীকে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট চাইতে দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে খ্যাত এ আসনে এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামকে। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা।
জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.মো.ইলিয়াস মোল্যাকে। তিনি মধুখালী উপজেলার কালপোহা গ্রামের বাসিন্দা।
জাতীয় পার্টি থেকে লড়ছেন অ্যাডভোকেট সুলতান আহমেদ খান। তিনিও মধুখালী উপজেলার বাসিন্দা।
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী মৃন্ময় কান্তি দাসের (রকেট) বাড়ি বোয়ালমারী পৌর সদরের কামারগ্রামে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শিল্পপতি মো. আবুল বাসার খান (ফুটবল)। তিনি মধুখালী উপজেলার আশাপুর এলাকার বাসিন্দা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা এনসিপির সাবেক আহবায়ক মো. হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুরের (হরিণ) বাড়ি বোয়ালমারী উপজেলার রাজাপুর গ্রামে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত চিকিসক ডা.মো.গোলাম কবীর মিয়া (মোটরসাইকেল) বোয়ালমারী উপজেলার চতুল এলাকার বাসিন্দা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবাসী শেখ আব্দুর রহমান জিকোর (উট) বাড়ি আলফাডাঙ্গার কুচিয়াগ্রামে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি ঢাকা টাইমস সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান দোলন (জাহাজ)। কিন্তু জুনাইদ নামে এক জুলাই যোদ্ধা আদালতে আপিল করলে আদালত দোলনের প্রার্থীতা বাতিল করে দেয়। বর্তমান আরিফুর রহমান দোলন ধানের শীষের নির্বাচন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ আসনে এবার অভিজ্ঞ বনাম অনভিজ্ঞের লড়াই হবে। কারণ বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমপি হয়েছিলেন। এরপরে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও বিভিন্ন নির্বাচনে তিনি সক্রিয় প্রভাব রেখেছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্যা বয়সে প্রবীণ হলেও এটিই তাঁর প্রথম নির্বাচন। বাশার খানসহ অন্য প্রার্থীরাও এবারই প্রথম নির্বাচনে লড়ছেন। ইতিমধ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফরিদপুর এবং ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর আমীর বোয়ালমারীতে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়ে নিজ নিজ দলের নেতা-কর্মীদের তাতিয়ে দিয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম শেষ মুহুর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাত-দিন মধুখালীর একপ্রান্ত থেকে আলফাডাঙ্গার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছেন। গণসংযোগ আর উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে টানছেন। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রার্থীসহ আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের ভোট দিবে। এলাকার হিন্দু ভাইয়েরাও আমাদের ভোট দিবে। কারণ স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামকে তাঁরা বিশ্বাস করেনা। নিরাপদও বোধ করেনা। তাই সকলে মিলে ধানের শীষে ভোট দিবে এবং বিজয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্যা প্রায় দেড় বছর ধরে মাঠে রয়েছেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই সকাল সন্ধ্যা হাট-বাজার, মাঠে-ঘাটে গণসংযোগে ব্যস্ত রয়েছেন।
বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমীর সৈয়দ নিয়ামুল হাসান বলেন, ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী ও ভোট ব্যাংক। পুরুষ ও মহিলা কর্মীরা প্রতিনিয়ত মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছে। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনী জনসভা করে যাওয়ার কর্মী-সমর্থকরা আরও উজ্জীবিত। শতকরা ৭০ ভাগ ভোট কাস্ট হলে আমরা ৪০ ভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হবো ইন শা আল্লাহ।
তবে প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই ভোটের মাঠে প্রচুর প্রভাব ফেলেছেন তরুন শিল্পপতি আবুল বাসার খান। আবুল বাশারের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে ভোটারদের মাঝে।
অপরদিকে আরিফুর রহমান দোলনের প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় ফুটবল আলোচনায় এসেছে বলে বিজ্ঞজনদের ধারনা।
জেলা এনসিপির সাবেক আহবায়ক মো. হাসিবুর রহমানও প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কিছু কর্মীও মাঠে দেখা গেছে। বাকি প্রার্থীদের তেমন প্রচার নেই। কয়েকটা ব্যানার টানিয়েই প্রচারনা শেষ। তবে শেখ আব্দুর রহমান জিকোর কোন প্রচারনাই নেই।
আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনে অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির আওয়ামী লীগবিহিন নির্বাচনে বর্তমান ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম এবং ২০০৫ সালের আওয়ামী লীগবিহিন উপনির্বাচনে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর এমপি নির্বাচিত হন। শাহ জাফর এর আগে ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি নির্বাচিত হন। সে সময় ভোট বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৫ হাজার ৭০২ জন। এর মধ্যে বোয়ালমারীতে এক লাখ ৮৪ হাজার ১৪২ জন। মধুখালীতে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৭০ জন এবং আলফাডাঙ্গায় এক লাখ ৩ হাজার ৭৯০ জন।
ভোটারগণ ১৯৭ টি ভোট কেন্দ্রের ১০০৬ টি বুথে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে তিন উপজেলায় ৪৫টি, এর মধ্যে বোয়ালমারী উপজেলায় রয়েছে ২১ টি।



