
নিজস্ব প্রতিবেদক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ এবং অনতিবিলম্বে নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা জেলা উত্তর শাখা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে চারটায় সাভার নিউমার্কেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পাকিজার শহীদ ইয়ামিন চত্বরে এসে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আপামর ছাত্র সমাজের হৃদয়ের স্পন্দন যেখানে প্রতিধ্বনিত হয়, সেই ছাত্রসমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আজকের এই শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদী সমাবেশে উপস্থিত সবাইকে আমি সালাম জানাই।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এদেশের ছাত্রসমাজ ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির করাল গ্রাসে বন্দি ছিল। ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা একটি নতুন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, একটি মহল আবারও পুরোনো কাঠামো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোনো ছাত্রলীগীয় কায়দায় মব তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কিছু দাবি চাপিয়ে দিয়ে শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন জোয়ার শুরু হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের একটি কল্যাণমুখী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের কবল থেকে মুক্ত করার এই প্রচেষ্টার সঙ্গে সবাইকে একতাবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের পালস উপেক্ষা করে যদি কেউ আবারও গেস্টরুম, গণরুম, চাঁদাবাজির রাজনীতি কায়েম করতে চায়, তাহলে ছাত্রসমাজ তা কখনোই মেনে নেবে না। অবিলম্বে শাকসু নির্বাচন পুনরায় আয়োজনের পাশাপাশি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সভাপতি আলমগীর হোসাইন রাকিব। তিনি বলেন,“৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা আশা করেছিলাম ছাত্রসমাজ আর রাস্তায় নামবে না; তাদের ঠিকানা হবে লাইব্রেরি ও গবেষণাগার। কিন্তু শাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ছাত্রসমাজকে আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।”
তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতায় এসে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে তারাই আবার পেশিশক্তি ও মব সৃষ্টি করে শাকসু নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করছে। ছাত্রসমাজের মতামতকে ভয় পায় বলেই তারা নির্বাচন চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা, ১৬ বছর বয়সী হাফেজ আবু তালহা শুভ’র ওপর সাম্প্রতিক নির্যাতনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “একজন সাধারণ ছাত্র, যিনি শুধু মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন, তাকেও চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। এটি ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে ভয়ংকর বার্তা।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন,“আমাদের নম্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। এই নরম হাতই মুষ্টিবদ্ধ হলে ফ্যাসিবাদের ঘাড় মটকাতে জানে।”
সমাবেশ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনতিবিলম্বে শাকসু নির্বাচন বাস্তবায়ন এবং সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্ন রাখার জোর দাবি জানান নেতারা।
সমাবেশ পরিচালনা করেন ছাত্রশিবির ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সেক্রেটারি সাইফুদ্দিন আহমেদ। এ সময় ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সেক্রেটারিয়েট সদস্যবৃন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




