sliderস্থানিয়

শর্তসাপেক্ষে পূনরায় দলে ফিরলেন বিএনপি নেতা মানিক

রতন রায়হান, রংপুর: দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কৃত থাকার পর অবশেষে ক্ষমা পেলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ বুধবার ৩ ডিসেম্বর তাঁর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি আবার দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পূর্বে বহিষ্কৃত এই নেতার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে এবং ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার শর্তে এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নেতা ইতিপূর্বে সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘনজনিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। তবে, তিনি দলীয় প্রধানের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করে ভবিষ্যতে দলের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। বিএনপির হাইকমান্ড তার আবেদন বিবেচনা করে এই সিন্ধান্ত নিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। এবং দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা এই কর্মীর মাঠে ফেরা নতুন শক্তি যোগাবে দল কে। ​এই সিদ্ধান্তের ফলে এই বহিস্কৃত নেতা পুনরায় দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদমর্যাদায় ফিরে পেয়েছেন। এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন। এই পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনীতিতে দলটির জনসমর্থন এবং সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

‎এর আগে গত ৫ এপ্রিল (শনিবার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, অন্যপক্ষে ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিক। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।? এতে লাভলু মিয়া (৫০) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হন, যিনি মোহাম্মদ আলী সরকারের ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ছয়জন নেতা বহিষ্কৃত হন। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, মোহাম্মদ আলী সরকার, সাবেক এমপি ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য হুমায়ুন কবীর মানিক। বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল হক মানিক। বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক। মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, কালুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, বিষ্ণ-পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। দলীয় সিদ্ধান্তে এবার তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবির মানিকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। রংপুর জেলা বিএনপি নেতাকর্মী ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা মানিকের প্রত্যাবর্তনকে সমঝোতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, মানিক ভাই আমাদের এলাকায় একজন জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ নেতা। তার দলে ফেরা বদরগঞ্জ বিএনপির ঐক্য ও শক্তি ফিরিয়ে আনবে। অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিএনপির সংগঠনের ভেতরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‎তারা বলছেন, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত দলীয় ঐক্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, রাজনীতিতে শাস্তি যেমন আছে, তেমনি সংশোধনও আছে। মানিকের মতো নেতারা মাঠে কাজের অভিজ্ঞতা রাখেন। তাদের ফিরে পাওয়া মানে সংগঠন আরও শক্তিশালী হওয়া। বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, বিএনপি এখন গণসংযোগ ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভূমি শক্ত করতে চাইছে। বহিষ্কৃত নেতাদের ফিরিয়ে আনা তারই অংশ এটি কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যন্ত বার্তা পাঠানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button