sliderজাতীয়শিরোনাম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ৫ দফা প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের

পতাকা ডেস্ক: চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ‘বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরের রূপরেখা প্রস্তাব’ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে অবিলম্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে। প্রস্তাব অনুসারে, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করবে। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের গুলি এবং প্রাণহানির নিন্দা জানান শিক্ষকরা।

সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মোর্চা এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে তারা। বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রূপান্তরের সময় উপস্থিত। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের এক দফার সঙ্গে একমত হয়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী, অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান ও মোশাহিদা সুলতানা। এতে বলা হয়, তারা একটা ভয়ংকর সময় পার করছেন। একই সঙ্গে তারা একটা অসাধারণ সৃষ্টিশীল সম্ভাবনাময় সময়ও পার করছেন। তারা ভয়ংকর দমন–পীড়ন দেখছেন। তারা অসাধারণ প্রতিরোধও দেখছেন। গণ-অভ্যুত্থান অনেক দেখেছেন, কিন্তু মাত্র ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে এত প্রাণহানি বাংলাদেশ আর কখনো দেখেনি। বর্তমান আন্দোলন কেবল কোটা সংস্কারের প্রশ্নে আটকে নেই। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলন এক গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি এখন শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের এক দফায় এসে ঠেকেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে এই সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছে

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ‘রূপান্তরের রূপরেখা’ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই বুঝতে পারছি একটি ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে একটা অসাধারণ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এ রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির জন্য আমাদের অবশ্যই একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এই পরিবর্তনটা এই সরকারের পদত্যাগের মাধ্যমে সূচিত হবে।

রূপরেখাগুলো হলো-

১. অবিলম্বে শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের মূল শক্তিগুলোর সম্মতিক্রমে নাগরিক ও রাজনৈতিক শক্তিসমূহের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষক বিচারপতি, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের অংশীজনদের নিয়ে একটি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অন্তভূক্তিমূলক অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই সরকারের সদস্য নির্বাচনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভূমিকা পালন করবেন। এই সরকারের কাছেই শেখ হাসিনার সরকার পদত্যাগ করবে।

২. শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের মূল শক্তিগুলো অংশীজনের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনসমূহের সমন্বয়ে সর্বদলীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নাগরিকদের নেতৃত্বে একটি ছায়া সরকার গঠিত হবে। এই ছায়া সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতে করবে, যেন দেশে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত দাবি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

৩. অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে সেগুলো হলো-

ক) জুলাই হত্যাকাণ্ড এবং জনগণের ওপর জোর জুলমের দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য জাতিসংঘের সহয়তায় তদন্ত কমিটি গঠন করবে এবং তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে।

খ) সাম্প্রতিক সময় করা মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক সকল মামলা বাতিল করতে হবে। এসব মামলায় আটক কিংবা বিনা মামলায় আটক সবাইকে মুক্তিদান করবে।

গ) সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যে একটি সংবিধান সভা গঠনের জন্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
নির্বাচিত সংবিধান সভায় এমন এক গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রস্তাব করবে যে সংবিধানে স্বৈরতান্ত্রিক,সাম্প্রদায়িক ও জনবিদ্ধেষী বৈষম্যমূলক কোনো ধারা থাকবে না।

৪. শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের অভ্যুত্থানের মূল শক্তির মধ্যে সংলাপের ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে হবে যেখানে বৈষম্য ভিন্নতার মেলবন্ধনে জনগণের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথ নির্দেশ করবে।

৫. আমাদের প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, মূল অংশীজনের তালিকা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থী-জনতার ছায়া সরকার গঠনের প্রয়োজনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক যেকোনো দায়িত্বগ্রহণ বা পালন করতে প্রস্তুত আছে। এই রূপরেখা একটি প্রাথমিক প্রস্তাব মাত্র। প্রয়োজনে এই প্রস্তাবকে আরও বিস্তৃত করার জন্য আমরা ভবিষ্যতে কাজ করতে আগ্রহী।

এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে অবস্থার পরিবর্তন হবে না, বরং অবনতি হবে। সরকার যত দ্রুত পদত্যাগ করবে, তা দেশের জন্য, তাদের নিজেদের জন্যই ভালো। গণভবন খোলা বলা হচ্ছে, এটি ১৪ জুলাই খোলা হলে এত রক্তপাত হতো না। তাঁরা আশা করেন, সরকার আর জটিলতা সৃষ্টি না করে দ্রুত পদত্যাগ করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button