sliderস্থানিয়

বিষখালী নদীর ভাঙনের যেন শেষ নেই, হুমকির মুখে বিদ্যালয়

মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: বিষখালী নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের দুটি বিদ্যালয়। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

গত ১৫ আগস্ট নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিদ্যালয়ের মাঠের একাংশসহ বেড়িবাঁধের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন বিষখালী নদীর খুব কাছাকাছি। জোয়ারের সময় নদীর পানিতে তলিয়ে যায় বিদ্যালয় ভবনের সামনের মাঠ। ঢেউ আছড়ে পড়ে ভবনের দেয়ালে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার জানান, বিদ্যালয়টিতে ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বিদ্যালয় ভবনের কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। বেড়িবাঁধ না থাকায় শিক্ষার্থীরা নদীর দিকে চলে যায়। জোয়ারের সময় বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। যেভাবে ভাঙন এগিয়ে আসছে, তাতে যেকোনো সময় বিদ্যালয় ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রæত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার ও হাসানুজ্জামান জানান, একসময় বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩শ শিক্ষার্থী ছিল। নদীভাঙনে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের পাশে থাকা বেড়িবাঁধের একটি অংশ কয়েক দিন আগে মাঠের একাংশসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে মাঠের যে সামান্য অংশটুকু অবশিষ্ট আছে, জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাও নদীগর্ভে চলে যাবে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে বিদ্যালয় ভবন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক শাহিন হাওলাদারসহ কয়েকজন জানান, বিষখালীর ভাঙনে এরই মধ্যে এলাকার বহু মানুষ বসতভিটা ও জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছেন। চলতি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিদ্যালয় দুটি ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় সন্তানদের নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। ভাঙন রোধে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তারা।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু জানান, “ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভাঙন রোধে যত দ্রæত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button