জাতীয়শিরোনাম

দৌলতদিয়ায় দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ

বর্তমানে দৌলতদিয়ার ১ ও ৩ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে সীমিতভাবে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় ৪ নম্বর ঘাটটি দিয়ে বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কোনো বড় গাড়ি পারাপার করা যাচ্ছে না। শুধু ছোট গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। কখনো কখনো সাময়িক বন্ধ রাখতে হচ্ছে ঘাটটি। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে সাত কিলোমিটার জুড়ে বাস, প্রাইভেট কার ও ট্রাকের দুই সাড়িতে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীগামী মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শনিবার বিকেলে দেখা যায়, ফেরিঘাট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় পর্যন্ত দুই সারিতে শ শ গাড়ি নদী পারাপারের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া ঘাট থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখী গাড়ির একটি সারি থাকায় মহাসড়কে ঠিকমতো হেঁটে চলার উপায় নেই। যানজট এড়াতে গোয়ালন্দ বাজার বাসস্ট্যান্ড ও উপজেলা পরিষদ মাঠে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার গাড়ি যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে। এসব যাত্রী গোয়ালন্দ থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে যাচ্ছেন।
যশোর থেকে আসা আবুল হোসেন বলেন, ‘রোববার অফিস খুলছে, তাই আজই রওনা করেছি। কিন্তু এ কী দুর্ভোগ! মাথায় ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে শুরু করেছি।’
আরো দেখা গেছে, ঘাটের যানজট এড়াতে গোয়ালন্দের পদ্মার মোড় এলাকা থেকে মাহিন্দ্র, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট গাড়ি গোয়ালন্দ বাজার হয়ে পূর্ব উজানচর দিয়ে চর দৌলতদিয়া হয়ে ঘাটে যাচ্ছে। এতে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে। কিন্তু সেই পথেও দীর্ঘ জট।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়ক জুড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় সহস্রাধিক যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে মহিলা ও শিশু যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘাট এলাকায় অবস্থান নিয়ে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। পুলিশ সুপার বলেন, ঈদ শেষে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেন সেজন্য ঘাট এলাকায় পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়ন রয়েছে।
সুত্র: নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button