
কামরুল ইসলাম। রাংগামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নকে ঘিরে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। রাজধানীর বেইলি রোডে রোববার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত (অব.) সুপ্রদীপ চাকমার সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকে বসেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন, রয়েল ডেনিশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মোলার (ক্রিস) এবং ডেনমার্ক দূতাবাসের রাজনৈতিক প্রধান ওলে লানডিন। বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষা,কৃষি,পরিবেশ, গণতন্ত্র ও সংস্কৃতি সংরক্ষণসহ বহুমাত্রিক সহযোগিতার সম্ভাবনা।
সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কৃষি আধুনিকায়ন ও স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি। এসব উদ্যোগ অর্থনীতি সচল করবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে।
বৈঠকে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের ১০০টি স্কুলে স্টারলিংক প্রযুক্তির মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা চালু হচ্ছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু হয়েছে।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষাভিত্তিক বই প্রকাশ ও স্থানীয় ভাষার শিক্ষক তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশ কাপ্তাই লেকের টেকসই ব্যবহার, কফি ও কাজু বাদাম চাষ, প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, লাইভলিহুড ডেভেলপমেন্ট এখন পাহাড়ি অঞ্চলের বড় ইস্যু। কর্মসংস্থান ও পানি সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রসঙ্গও তোলেন। তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উপদেষ্টা বলেন, “সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কাজ করছে।
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। সুপ্রদীপ চাকমা স্বীকার করেন, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, নার্সিং খাত ও পরিবেশসম্মত পর্যটনকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে তুলে ধরেন।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতা প্রশংসনীয়। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এখানকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। একই মনোভাব প্রকাশ করেন ডেনমার্কের দুই প্রতিনিধি।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অতুল সরকার, উপদেষ্টার একান্ত সচিব খন্দকার মুশফিকুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী সচিব শুভাশীষ চাকমা।
বৈঠকের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে—পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা এখন আর শুধু স্থানীয় ভাবনায় সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্তও উন্মোচিত হচ্ছে।




