sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে ৯ স্কুল শিক্ষার্থী একযোগে হঠাৎ অসুস্থ, কারণ রহস্যাবৃত

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি স্কলের একই শ্রেণির ৯ শিক্ষার্থীর এক সঙ্গে অসুস্থ হওয়া ঘটনা ঘটেছে। তবে চিকিৎসা শেষে তারা এখন সুস্থ হয়ে উঠলেও হঠাৎ এমন অসুস্থতার কারণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে রহস্যময়তার।

বুধবার (৬ আগস্ট) উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের জয়নগর জুনিয়র হাইস্কুলে এ ঘটনাটি ঘটে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা দশ জন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ছয়শো। বুধবার সকাল ১১ টার দিকে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির রিতু,মিম,হানিফা, হাফেজা,সামিয়া,অথৈই সহ ৯ ছাত্রী রহস্যজনক কারণে শ্রেণি কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরানো ও চেতনাহীনতার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাদের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। কেউ স্থানীয় চিকিৎসায় আবার কেউ ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠে।

এদিকে অসুস্থ ছাত্রীরা এখন সুস্থ থাকলেও হঠাৎ করে এমন অসুস্থতার কারণ নিয়ে পাওয়া গেছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থী,অভিভাবকরা একেকজন একেক রকম কথাবার্তা বলছেন।

মোঃ হাফিজুর রহমান নামে একজন অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে হাফিজা ও ভাতিজি সামিয়া দুই জনেই ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকালে তারা খাবার খেয়েই স্কুলে আসেন। স্কুল চলাকালে হঠাৎ মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে যায়। এসময় একই ভাবে আরো কয়েক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অন্যরা স্থানীয় চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও আমার ভাতিজি সহ মোট তিন জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারাও এখন সুস্থ। তবে তাদের পেটে বিষক্রিয়া জনিত কিছু পাওয়া যায়নি বলে চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন।

দেলোয়ার হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, মাঝেমধ্যেই স্কুলে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্মদিন পালন করা হয়। ঘটনার দিনও ক্লাসে পাঠদান বন্ধ রেখে মিমি নামে এক শিক্ষার্থীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিল। এই অনুষ্ঠানের খাবার খেয়েই মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ঘটনার জন্য প্রধান শিক্ষক পরিমল ব্যানার্জির গাফিলতিকে দায়ী করেন দেলোয়ার হোসেন।

এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জয়নগর জুনিয়র হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরিমল ব্যানার্জি বলেন,ঘটনার দিন স্কুলে কোন জন্মদিন পালন করা হয়নি। ইতিপূর্বে জন্মদিন পালন করা হলেও সেটা হয়েছে ছুটির পর। না খেয়ে স্কুলে আসার কারণে মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ আবু আহাদ মিয়া বলেন,বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অন্য কেউ আমাকে জানাননি। এখনই খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button