
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ ঢাকার ধামরাইয়ে ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসব ও মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে সাভার ক্যান্টমেন্ট এর সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঙ্গল প্রদীপ জ¦ালিয়ে ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ধামরাইয়ের রথযাত্রা উৎসব অতি প্রাচীন। এ রথ উৎসব শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এ উৎসব এখন সার্বজনীন হয়ে রুপ নিয়েছে। ধামরাইয়ের এই রথমেলায় দেশের দুরদূরান্ত থেকে হিন্দু-মুসলমানসহ লাখো মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সকল ধর্মের লোকজন নিরাপদে আছে। দেশের আইন শৃঙ্খলারও উন্নতি হয়েছে। এর আগে তিনি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যারা অংশগ্রহন করেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
ধামরাইয়ের শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির ও রথ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনীক, যশোমাধব মন্দির ও রথ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নন্দ গোপাল সেন ও কাসা পিতল কারুকার্য শিল্পী সুকান্ত বনিক প্রমূখ।
বিকেল ৬টায় যশোমাধব মন্দির থেকে মাধব বিগ্রহসহ অন্য বিগ্রহগুলো রথের ওপর স্থাপন করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ রথযাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি সারথীর হাতে প্রতীকী রশি প্রদান করেন। এরপর ভক্তরা প্রতিমাসহ ৪২ ফুট উচ্চতার তিনতলা বিশিষ্ট রথটি পাটের রশি ধরে টেনে শ্রীশ্রী যশোমাধবকে তার কথিত শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ি মন্দিরে নিয়ে যান। এ সময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ চিনি-কলা ছিটিয়ে যশোমাধবের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানেই রথটি প্রতি বছরের মতো নয়দিন অবস্থান করবে। মাধব ও অন্য বিগ্রহগুলো রথ থেকে নামিয়ে নয়দিন পূজা-অর্চনা করা হবে কথিত মাধবের শ্বশুরবাড়ি যাত্রাবাড়ি মন্দিরে।
এরআগে সকাল ১০টায় ধামরাইয়ের কায়েতপাড়ায় রথের সামনে ঢাকঢোল, বাদ্য, কাঁসরঘন্টা ও মহিলাদের উলু উলু ধ্বনি এবং পুজা-অর্চনার মধ্যদিয়ে মন্দিরের পুরোহিত উত্তম গাংগুলি ও চপলেশ গাংগুলি ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। আগামী ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথটান। তবে মেলা চলবে মাস ব্যাপী।
মাসব্যাপী রথমেলা সফল করতে রথ পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি চার শতাধিক সেনাসদস্য, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মেলাঙ্গণ নজরদারি করছেন বলে জানান ধামরাই থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।
রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে ধামরাই কায়েতপাড়া থেকে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত অর্ধকিলোমিটার সড়ক জুড়ে বসেছে হরেক রকমের দোকান। মেলায় দেশখ্যাত সার্কাস দল, নাগরদোলা, পুতুল নাচ, বেদেনীদের চুড়ি, শিশুদের খেলনা, কাঠের ফার্নিচার, কাঁসা-পিতল ও কুটির শিল্পের কয়েক’শ স্টল বসেছে।




