sliderস্থানিয়

‎মির্জাপুরে স্ত্রী-সন্তানের শরীরে এসিডের ঘটনায় স্বামী গ্রেফতার হলেও বাকী আসামিরা পলাতক

মাসুদ পারভেজ,মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি : ‎টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নে যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করাতে নেশাগ্রস্ত স্বামী রাকিব তার স্ত্রী-সন্তানের শরীরে তারপিন ও এসিড জাতীয় দ্রব্য শরীরে ঢেলে ৫ মাস আগে আগুনে জ্বলসে দেয় বলে জানা গেছে। রাকিব ঐ ইউনিয়নেরই তেলিনা উত্তরপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে।

‎পরে ভুক্তভোগী কনা আক্তার ইতির (২১) ভাই বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামি করে টাঙ্গাইল কোর্টে মামলা দায়ের করেন।আসামিরা হলেন উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা উত্তর পাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫), রাকিবের বাবা আকবর আলী (৪৫), মাতা রুকসানা বেগম (৪২) ও বোন রাত্রি আক্তার (২১)।

‎এই ঘটনায় আসামি রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান মির্জাপুর থানার এসআই রাহাদুজ্জামান আকন্দ কিন্তু বাকী আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

‎উল্লেখ্য,জানা যায় গত তিন বছর আগে মির্জাপুর উপজেলা আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা উত্তরপাড়া এলাকার আকবরের ছেলে রাকিব ও একই ইউনিয়নের আজগানা মাঠেরচালা এলাকার কাদের সরকারের মেয়ে ইতি আক্তার কণার সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। বিয়ের প্রথম থেকেই যৌতুকের জন্য নানাভাবে নির্যাতন করতেন বলে জানা যায়।

‎ভুক্তভোগী ইতি আক্তার কণা বলেন, বিয়ের প্রথম থেকেই যৌতুকের জন্য সংসারে অশান্তি ছিলো।যৌতুকের জন্য কখনো কখনো খেতে দিতো না,রান্না করতে দিতো না,শারীরিক ও মানসিকভাবে চালাতো নানারকম নির্যাতন। পারিবারিক জীবনে ২ সন্তানের জননী হওয়ায় সকল নির্যাতন মেনে নিয়ে এভাবেই চলছিলো জিবন সংসার। গত ৫-৭ মাস আগে ৫ লক্ষ টাকা বাবার বাড়ি থেকে আনতে বলেন। এত টাকা কোথায় পাবো বললে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ সন্ধ্যার আগে আমাদের বাড়িতে আসে রাকিব। এসেই একপর্যায়ে ঘরের ভেতর বোতল থেকে তেলজাতীয় পদার্থ আমার শরীরে ঢেলে দেয়া মাত্র শরীর জ্বালাপোড়া করে। ঘর থেকে দৌড় দিতে চেষ্টা করলে ল্যাং মেরে ফেলে দেয় এবং হাতে থাকা ফায়ারবক্স দিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। কোলে থাকা দেড় মাসের ছোট বাচ্চার শরীর আগুন থেকে বাঁচাতে ছুড়ে মারি। তখন আমার স্বামী এসে গলায় ঝাপটে ধরে। চিৎকার করলে বাড়ির লোকজন কাছে আসলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

‎‎ভুক্তভোগী ইতির মা জানান,ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাড়িতে আমরা রুটি বানাতে ছিলাম। হঠাৎ ঘরের ওদিক হতে চিৎকারের শব্দ পেয়ে তাকিয়ে দেখি আমার মেয়ের শরীরে আগুন জ্বলছে। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের জামাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। আমরা মেয়েকে নিয়ে দ্রুত হসপিটালে চলে যাই। এ বিষয়ে অবশেষে টাঙ্গাইল কোর্টে মামলা করলে কোর্টে দাড়ালে জজ সাহেব আমার মেয়ে ও নাতিকে দেখে রাকিবের নামে ওয়ারেন্টের কাগজ দেয়। পরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করলেও বাকী আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তারা এখন আমাদের নানানরকম হুমকি দিচ্ছে।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার রাকিবের উপযুক্ত বিচার এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

‎মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রাহাদুজ্জামান আকন্দ বলেন,একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছি।মামলার তদন্ত চলমান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button