
অভিনব উপায়ে স্বর্ণ এনেও শেষ রক্ষা হয়নি সিঙ্গাপুর ফেরত যুবক মোহাম্মদ জামসেদ আলমের। বেরসিক কাস্টমস কর্মকর্তাদের তদন্তে শেষ পর্যন্ত দামি খেজুরের ভেতর থেকে বিচির বদলে স্বর্ণ বেড়িয়ে এলো।
শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে জামসেদ আলমের বিমান। এই ফ্লাইটে স্বর্ণ আসছে এমন খবর আগে থেকেই ছিলো কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে। খুব সতর্কভাবে তল্লাশী চলছিলো সবকিছুর। কোনো যাত্রীই বাদ যাচ্ছেন না। প্রত্যেক যাত্রীর প্রতিটি ব্যাগ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছিলো।
প্রথম দিকে কোনও ব্যাগে স্বর্ন না পেয়ে কিছুটা চিন্তিত ছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। তবে সিঙ্গাপুর ফেরত যুবক মোহাম্মদ জামসেদ আলমের ব্যাগ তল্লাশী করার সময় স্ক্যানিং মেশিন স্বর্ণ পাওয়ার সংকেত দিলো। নড়েচড়ে বসলেন কর্মকর্তারা।
খোলা হলো জামসেদের ব্যাগ। কিন্তু স্বর্ণের নাম-গন্ধটিও নেই কোথাও। কোনো কিছু না পেয়ে ব্যাগ আবার স্ক্যানিং মেশিনে তোলা হলো। এবারও মেশিনের স্বর্ণ পাওয়ার সংকেত দিলো।
শেষমেশ জামশেদের ব্যাগের খাবারে হাত দিলেন কর্মকর্তারা। পাওয়া গেলো দামি এক বাক্স খেজুর। সাধারণত কোনো যাত্রীর খাবারের বাক্স চেক করা হয় না বলে জানালেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। কিন্তু কোনো উপায় না পেয়ে জামশেদের আনা খেজুরের বক্স খুলতে বাধ্য হলেন তারা।
কিন্তু বক্স খুলেও স্বর্ণের দেখা নেই। অথচ স্ক্যানিং মেশিন বলছে, এই বক্সেই স্বর্ণ আছে। উপায়ান্তর না পেয়ে একটি খেজুর নিয়ে চাপ দিলেন একজন কাস্টমস কর্মকর্তা। হাতে লাগলো চারকোণা আকৃতির কিছু একটা। ভালোমতো বের করেই দেখা গেলো খেজুরের ভিতরে বিচির বদলে স্বর্ণের ছোট ছোট চারকোণা বিচি আকৃতির স্বর্ণ।
মোট ১৯৫টি ‘স্বর্ণবিচি’ উদ্ধার করা হয় খেজুরের বক্স থেকে। সব মিলিয়ে মোট এক কেজি আটশ’ ৭৩ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া গেলো জামসেদের ব্যাগ থেকে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ লাখ টাকা।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জামশেদকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর মোবিন।




