
অবিলম্বে রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, পারস্পরিক প্রতিহিংসা সবকিছু ভুলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায় এমন সব রাজনৈতিক দল ও সমাজশক্তিকে নিয়ে জাতীয় কনভেনশন ডাকার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। তিনি দেশের যে কোনো জাতীয় সংকট, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের দাবি জানান।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুলশান হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আ স ম রব এ দাবি জানান।
আ স ম আবদুর রব বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করেই জঙ্গিবাদ দমন করা যাবে না। জঙ্গিবাদ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে প্রয়োজন ‘লৌহ কঠিন’ জাতীয় ঐক্য। তাই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের যে কোনো সংকট, জাতীয় দুর্যোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবেলায় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনএসসি) গঠন করতে হবে।
গণতন্ত্রহীন পরিবেশকেই জঙ্গিবাদিরা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে আ সম রব বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের পেছনে গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। এ অবস্থায় শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মুল করা যাবে না, এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের।
তবে রব প্রশ্ন করেন, কুটনৈতিক পাড়া হিসেবে সরকার ঘোষিত তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকা সত্ত্বেও তা ভেদ করে জঙ্গীরা এত অস্ত্র-সস্ত্র ও বোমা নিয়ে কিভাবে প্রবেশ করলো তার উত্তর দেশবাসী এখনও খুঁজে পাচ্ছে না। এ ঘটনা ভবিষ্যতে এর চেয়েও বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিতবহ। তাই দেশে আই এস বা আল কায়দা আছে কি নেই এ বিতর্কে না গিয়ে বাংলাদেশে চলমান জঙ্গী তৎপরতার উৎস ও ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করা আজ অপরিহার্য। কারণ হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় দুজন পুলিশ অফিসারসহ ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা ভবিষ্যতে এর চেয়েও বড় হামলার ইঙ্গিত বহন করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ১৪ জুলাই বিকেল ৪টায় জেএসডির কার্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আ স ম রব।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- দলটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, সিনিয়র সহ-সম্পাদক এমএ গোফরান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম, শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।




