
স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বয়সভিত্তিক (১৪-২১) জুডো প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠান আজ রাজধানীর পল্টনস্থ হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত তরুণ জুডোকারা অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জুডো ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি মীর আশরাফ আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা জান্নাত আরা।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ, বিকেএসপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবসহ মোট ১৫টি দলের ১১৪ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। কোচ ও কর্মকর্তাসহ মোট অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। ছেলে ও মেয়েদের জন্য মোট ১৪টি ওজন শ্রেণিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় যশোর জেলা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া শিকদার ইলা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে রৌপ্য পদক জয় করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার প্রতিটি ম্যাচে আত্মবিশ্বাস, কৌশল এবং লড়াকু মনোভাব দর্শকদের মুগ্ধ করে। একইসঙ্গে ফারিয়া আক্তার রিনা তাম্র পদক জয় করে যশোরের সাফল্যের ধারাকে আরও বেগবান করেছেন।
যশোর দলের টিম ম্যানেজার রাইয়ান রশিদ আবিরের দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দিকনির্দেশনায় দলটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সৈয়দ আলী আনোয়ার বলেন, “এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি যশোরের গর্ব। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমাদের খেলোয়াড়রা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় সাফল্য এনে দেবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এই সাফল্যের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে মফস্বলের খেলোয়াড়রাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। যশোরের এই অর্জন আগামী প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।




