মানিকগঞ্জে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্: ঢাকার কাছের জেলা মানিকগঞ্জে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে পড়েছে জেলা শহরের বিপণি বিতানগুলো। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে পছন্দের জিনিস কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল ও হিন্দি ছবির নায়ক-নায়িকাদের নামধারী হরেক রকমের পোশাক বাজার দখল করে রেখেছে।
সরজমিন বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের পৌর সুপার মার্কেট, তৃপ্তিপ্লাজা, ডলি প্লাজা, তাজবিপণি, মহিলা কলেজ মার্কেট, দোয়েল মার্কেট, সন্ধানী মার্কেট ও সিঙ্গাপুর মার্কেটসহ কমপক্ষে শতাধিক ছোট বড় বিপণি বিতানগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের থ্রিপিস, টুপিস, টপস, লেহেংগা, কামিজ, শাড়ি, ছেলেদের শর্ট, পাঞ্জাবি, লং পাঞ্জাবি, শার্ট, জুতা, ফতুয়া, জিন্সসহ শিশুদের নানা বৈচিত্র্যের পোশাক। তবে দেশি পোশাকের চাইতে বিদেশি পোশাকের দিকে বেশি ঝুঁকছে ক্রেতারা। প্রতিদিন সকাল থেকে কম করে হলেও রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বিকিকিনি।
সন্ধ্যার পর থেকে প্রত্যেকটি মার্কেটে আলোক সজ্জায় পাল্টে যায় চিরচেনা জেলা শহরের আসল চেহারা। শাড়ির দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ঢাকাই মসলিন, চিত্রা, বুটিক, বালুচুরি, কাতান, জামদানিসহ বিভিন্ন ধরনের সিল্ক। এছাড়া, বেনারসি কিংবা জামদানি শাড়ির পাশাপাশি ক্রেতারা ঝুঁকছেন বিচিত্র নাম আর বাহারি ডিজাইনের ভারতীয় শাড়ির দিকে। সাড়ে তিন শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০-২৫ হাজার টাকা দামের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে বড় বড় মার্কেটের বড় দোকানগুলোতে। শহরের ডলি প্লাজায় মার্কেট করতে আসা জেসমিন বেগম জানালেন, এবার ঈদে শাড়ি কাপড় থেকে শুরু করে সব জিনিসের দাম একটু বেশি। তার পরও নিজের জন্য এবং মা, শাশুড়ি, স্বামী, সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছি।
মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সিরাজুম মুনীরা জানালেন, সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রিপিচ কিনেছেন। ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচিং করে কসমেটিকস ও জুতা কেনা হয়েছে। তবে অন্য বারের চাইতে দাম একটু বেশি। টাচ ফ্যাশনে মার্কেট করতে আসা সান্ত্বনা আক্তার জানান, আমার ১ বছরের এক মাত্র কন্যার জন্য ২ হাজার টাকা দিয়ে স্কার্ট কিনেছি। দাম একটু বেশি হলেও একমাত্র মেয়ে বলে কথা। তৃপ্তি প্লাজা মার্কেটের জাকিয়া ফ্যাশনের মালিক মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ১০ রোজার পর থেকেই মূলত ক্রেতাদের ভিড় বেশি। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী ছেলে-মেয়েদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবার বেচা কেনাও বেশি। রঞ্জিত ক্লথস্টোরের মালিক পাপা সাহা জানান, ঢাকাই মসলিন, চিত্রা, বুটিক, বালুচুরি, কাতান, জামদানিসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি তার দোকানে রয়েছে। সাড়ে ৩শ’ টাকা থেকে শুরু করে ২০-২৫ হাজার টাকা দামে শাড়ি বিক্রি হচ্ছে। বেচা কেনা ভালো । তবে কেনার উপর দাম নির্ভর করছে। ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, ১০ রোজার পর থেকে বেচা-কেনা ভালো হচ্ছে। ছেলেদের জিন্স প্যান্ট, টি শার্ট ও শার্ট বিক্রি হচ্ছে তার দোকানে। এদিকে জেলা শহরের ঈদ বাজারে যুবক ও তরুণদের ভিড় পড়েছে পাঞ্জাবির দোকানে। হরেক রকমের হাতে কাজ করা পাঞ্জাবির কদর সব চেয়ে বেশি। তবে সব চেয়ে বেশি পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে নকশি ফ্যাশন, ইউসুব ইব্রহিম, সুখ ফ্যাশনসহ আরো কয়েকটি দোকানে। এক রেটে বিক্রি হওয়া এসব দোকানে ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা দামে পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে।




