আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া তাঁতী পাড়ায় খট্রর খট্রর শব্দে সরগরম। সাটুরিয়ার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী মসলিন ও তাতঁ শাডী রুচিশীল আভিজাত পরিবারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর তাই রাজধানী ঢাকার নামীদামী শপিংমল দখল করেছে সাটিুরিয়ার তাঁত শাড়ি। মহাজনের চাহিদা পুরনে ব্যস্ত তাঁত শিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত, শপিংমল গুলোতে চলছে বেচাকেনার ধুম । তাই নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে দিনরাত শ্রম দিযে যাচ্ছেন তাতীরা। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার গাওছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, নিউ মার্কেট-সহ নামী-দামী সপিংমলে প্রচুর অগ্রিম বায়না রয়েছে। সময় মত অর্ডার পুরন করতে পারলে তাঁত মালিক ও মহাজন হবে লাভবান আর শিল্পিদের ঈদের কেনাকাটায় বাড়তি খরচ জোগান হবে ।
কথা হয় মসলিন শাড়ি বুননের ওস্তাদ আগসাভার গ্রামের ফৈজুদ্দিনের পুত্র আঃ কাদের, শ্রমিক রুবেল, বাদল আর ছিদ্দিকের সাথে, তারা ঢ়ধঃধশধ২৪.পড়স কে বলেন, পুরোনো ডিজাইন বাদ দিয়ে ঈদে আকর্ষনীয় নতুন ডিজাইনের শাড়ি বাজারে দিয়েছেন, এগুলোর দাম একটু বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ৫ থেকে ১২ হাজার টাকায় সিল্ক, জামদানি, সফট সিল্ক, দোতারি, রেশমী, ইত্যাদি। দীর্ঘ নি:শ্বাস ছেরে আ: কাদের আরো জানান, তার হাতের তৈরি শাড়ী আভিজাত ফ্যাশন দোকানে উঠলে গায়ে বাহারী নামের লেবেল লাগানো হয়। তখন এ গুলোতে সাটুরিয়ার তৈরী পরিচয় থাকে না।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার নাসুরপুর, দিঘুলিয়া, আগসাভার, এলাকায় পৈতৃক পেশা হিসেবে গড়ে আছে ১০ হাজার তাঁত শিল্প। তাতীরা তাদের দক্ষতা দিয়ে উৎকৃস্ট মানের সুতায় বাহারী ডিজাইনের পাঞ্জাবী, থ্রী পিছ, লুঈি, চাদর সহ মসলিন-শাড়ী তৈরি করছে। যে মসলিনের প্রচন্ড সমাদর আর প্রসংসা ছিল ইতিহাসের মুঘল রাজ দরবারে।

শুধু পুরুষরাই নয়, বাড়ির মহিলারাও এ কাপর তৈরিতে যথেষ্ট শ্রম দিচ্ছেন। কেউ সুতা ছিটায় উঠানোর কাজে, কেউ সুতা পাড়ি করার কাজে, আবার কেউ সুতা নাটাইয়ে উঠানোর কাজে ব্যস্ত। উচ্চমুল্যে সুতা কেনা হলেও সেদিকে না তাকিয়ে চাহিদা পুরনে বুননের প্রাতিযোগিতায় নেমেছেন তাঁতিরা। তাঁত মালিকরা বেশি বেশি লাভের আশায় উৎপাদন বাড়াতে শ্রমিকদের লোভনীয় বোনাসের আশ্বাস দিয়েছেন।
তাঁতীরা জানান, এবার প্রতিটি মসলিন শাড়ির দাম ১ থেকে ২ হাজার টাকা বেড়েছে গেছে। তারপরও মহাজনদের বায়নার কমতি নেই। সৌখিন ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে মহাজনরা ভালো দামে নিয়ে, আরো চড়া দামে বিক্রি করতে পারছে। এদের তৈরী শাড়ির মধ্যে দোতারী, বালুচুরি, এন টিভি সহ বিভিন্ন নামে নামিদামি ফ্যাশন হাউস গুলিতে শুভা পাচ্ছে। সুত্র জানায় এনটিভির জনৈক খবর পাঠিকা সাটুরিয়া তাঁতীদের রেশমী শাড়ি পড়ে সংবাদ পাঠ করায় কাপড়ের নাম বদলে হয়েছে এনটিভি শাড়ি।
ইদুল ফিতর সমাগত শপিংমল গুলোতে বেচাকেনার ধুম পডেছে, তাই মহাজনরা শ্রমিকদের দ্রুত বুননের তাগিদ দিচ্ছে। শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ৮শ’ থেকে ১২ শ টাকা মজুরী পান। এছাড়া ঈদের বারতি বোনাস সুবিধার আশায় তারা পুরো দমে খেটে যাচ্ছেন। প্রতিবেদকের সাথে বেশী কথা বলে সময় নষ্ট করতে রাজি হয়নি তারা। তবে ঈদের আগে বোনাসের টাকা নিয়ে তাঁত মালিকদের কোন রকম বাহানা না করতে সতর্কবানী জানিয়েছেন তাঁতীরা।
কথা হয় রাজধানী ঢাকার গাওছিয়া মার্কেটের ক্লাসিক বুটিকের মালিক আহসানউল্লাহ এবং বিমমিল্লাহ শাডির মালিক আঃ আলিমের সাথে, সাটুরিয়ার তৈরি এসব শাড়ি আধুনিক-রুচিশীল বিলাশী নারীদের কাছে ব্যপক চাহিদা রয়েছে।



