খেলা

১৫ বছর পর ফাইনালে আরামবাগ

আগেই বলা হয়েছিল আরামবাগ-বিজেএমসির সেমিফাইনালে বড় তারকা কোচ সাইফুল বারী টিটু। আর আজ তার কোচিং জাদুতেই ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান আরামবাগ ক্রীড়া সঙ্ঘের। তাও আবার পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জয়।

সর্বশেষ ২০০১ সালে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলেছিল আরামবাগ। বিরতির পর মিডফিল্ডার অং থুয়াই চিং মারমাকে মাঠে নামান টিটু। এতেই বদলে যাওয়া আরামবাগ সমতা এনে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে ম্যাচ জিতে যায়। ম্যাচ শেষে এই টেকনিক্যাল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। ২৭ জুন ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আজ খেলা ঢাকা আবাহনী ও শেখ রাসেলের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল। ফেডারেশন কাপে টিটুর দলের কাছে বিজেএমসির হার নতুন কোনো ঘটনা নয়।

২০১১ সালে এই আসরের ফাইনালে শেখ রাসেলের কাছে হার বিজেএমসির। তখন কাপ জয়ী দলের কোচ টিটু। এবার মতিঝিল ক্লাব পাড়ার দলকে টেনে তুললেন ফাইনালে। তাও সব অখ্যাত অপরিচিত খেলোয়াড় নিয়ে। আজ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সেমিতে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় পুষ্ট বিজেএমসিই লিড নিয়েছিল। ৩৮ মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে ম্যাচে ফেরা নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এলিটা কিংসলে ফ্রি কিক থেকে গোলরক্ষক মিতুলকে পরাস্ত করেন জাকির হোসেন জিকু। বিপক্ষ রক্ষণভাগের ভুলে ফল পাওয়া জিকু বেশ খানিকটা সময় নিয়ে গোল করেন। ১৯ মিনিটে কিংসলের হেড পোস্ট ঘেঁষে যাওয়ায় ওই সময়ে এগিয়ে যাওয়া হয়নি বিজেএমসির। অফিস দলটি হয়তো ৬৩ মিনিটের মধ্যেই ২-০ তে লিড নিতো যদি মিস না করতেন আগের তিন ম্যাচে ৩ গোল করা তপু ও কিংসলে।

দুই ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়ান মিতুল। ম্যাচের ২ মিনিট বয়সেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আরামবাগ। নাইজেরিয়ান কেস্তার আকনের হেড বিজেএমসির গোলরক্ষক হিমেল ঠেকানোয় তা হয়নি। তবে ৬৪ ও ৭৪ মিনিটে জোড়া গোল করা এই স্ট্রাইকারই হয়েছেন ম্যাচ সেরা। ৬৩ মিনিটে তপু গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল তার সোজা মেরে যে সুযোগ নষ্ট করেন সে বলই কাউন্টার অ্যাটাক হয়ে আরামবাগের পেনাল্টির উৎস। বক্সে অং থুয়াই চিং মারমাকে ফাউল করেন শংকর। রেফারি আজাদ রহমানের দেয়া স্পট কিক থেকে সমতা আনেন কেস্তার। যদিও এই পেনাল্টি নিয়ে ঘোর আপত্তি বিজেএমসির। কোচ সাইদুল ইসলাম ম্যাচ শেষ অভিযোগ করেন ‘রেফারির উপহার দেয়া ওই পেনাল্টিতেই আমাদের খেলা শেষ’। ৭৪ মিনিটে থ্রু পাস থেকে পাওয়া বলে কেস্তারের দ্বিতীয় গোলের দায় রক্ষণভাগের।

পিছিয়ে পড়া বিজেএমসি ম্যাচে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হারায় ৭৩ মিনিটে। আরামবাগ ডিফেন্ডার ভাসানী বক্সে টেনে ফেলে দেন কিংসলেকে। এতে সৃষ্ট পেনাল্টি থেকে নাইজেরিয়ান স্যামুয়েল অ্যাডামসের শট পোস্টে লাগায় হতাশ হতে হয় ২০১১ এর ফাইনালিস্টদের। এরপর ৮২ মিনিটে তপুর হেড মিতুল প্রতিহত করায় আরেক দফা বঞ্চিত হন তারা। তাদের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয় ইনজুরি টাইমে করা জাফর ইকবালের দর্শনীয় গোলে। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গতিতে বক্সে ঢুকে প্রথম পোস্টে পরাস্ত করেন আরিফুজ্জামান হিমেলকে।

ম্যাচের আরো দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায় খেলা চলাকালে ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ডাগ আউটে যাওয়া এবং বিজেএমসির দুই খেলোয়াড়কে ব্রিফ করা, যা কোনো আইনে পড়ে না। দ্বিতীয়ত, বিজেএমসির কিংসলের হাঁটুতে মারাত্মক আঘাত পাওয়া মাঠের পাশে থাকা অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকের সিমেন্টের ভিত্তির সাথে লেগে।

সুত্র: নয়াদিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button