বেশি প্রশ্ন করলে আত্মহত্যা করব

‘বেশি প্রশ্ন করবেন না, তা হলে এখানেই আত্মহত্যা করব’। ভারতের বিহার রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে শীর্ষ স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠের এই কথায় রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছিলেন পরীক্ষকরা। তাই বেশি কিছু প্রশ্ন না করেই তাকে বাইরে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা।
চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের পর রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শীর্ষ স্থানাধিকারীদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই শিক্ষা দফতর তাদের দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৫ জনের একটি বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ১২ জন ছিলেন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং তিনজন ছিলেন হস্তলেখা বিশেষজ্ঞ। তবে পরীক্ষা দিতে আসেননি কলা বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী আলোচিত রুবি রায়। পরীক্ষায় অবজেক্টিভ ও সাবজেক্টিভ দু’ধরণেরই প্রশ্ন ছিল। লিখিত পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। সৌরভও হাজির হন। হলে প্রবেশ করেই পরীক্ষকদের তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিনি মানসিক দিক থেকে খুব চাপে রয়েছেন। উত্তর দেওয়ার অবস্থায় নেই। এরপরেই ঘরে থাকা সব পরীক্ষককে চমকে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু প্রশ্ন করবেন না যাতে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হই।’ তাঁর এই কথা শুনেই পরীক্ষকেরা ঘাবড়ে যান। তাকে পানি পান করিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা বাইরে পাঠিয়ে দেন।
পরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞ দলটি জানিয়েছে, বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই সঠিক উত্তর দিয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের অধ্যক্ষ লালকেশ্বর প্রসাদ সিংহ বলেন, ‘ভাল লেখক ভাল বক্তা হতে পারেন না।’ শীর্ষ স্থানাধিকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আরও বলেন, ‘টিভি চ্যানেলের ক্যামেরা দেখে নার্ভাস হয়ে গিয়ে ছেলেমেয়েরা ভুল বলে ফেলেছে।’ রুবি রায় তা হলে কেন পরীক্ষা দিতে এলেন না? এই প্রশ্ন করাতে লালকেশ্বর বলেন, ‘শরীর খারাপের জন্য সে পরীক্ষা দিতে পারেনি।’
প্রসঙ্গত, উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর কলা বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী রুবি রায়কে পলিটিক্যাল সায়েন্স কী তা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি একটি রান্না শেখানোর বিষয়।’ এ ছাড়াও তিনি পলিটিক্যাল সায়েন্সকে প্রডিক্যাল সায়েন্স উচ্চারণ করেন তিনি। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী সৌরভ শ্রেষ্ঠকে বিজ্ঞান সংক্রান্ত সাধারণ মানের প্রশ্ন করায় যে উত্তর দেন, তাতে ভারতজুড়ে হইচই পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এরা বোর্ডের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। তার পরেই নড়েচড়ে বসে রাজ্য শিক্ষা দফতর। ফের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।


