
কমিউনিস্ট জীবনবোধ ও কমরেড অমল সেন :
কমিউনিস্ট নেতা কমরেড অমল সেনের মার্কসবাদী দর্শন, রাজনীতি ও সংগঠন সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা রয়েছে। ১৯৮৬ সালের বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির ভাঙ্গন শুধু নয় সকল ভাঙ্গনের ক্ষেত্রেই যেখানে মার্কসবাদী আদর্শ নীতি-কৌশল জীবনবোধ বলতে বুর্জোয়া, পেটি-বুর্জোয়া মতাদর্শ নীতি-কৌশল মুখ্য হয়ে যায় সেখানে কমিউনিস্ট পার্টির ঐক্য থাকতে পারেনা এটাই আমার তত্ত¡ ও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান। শুধু নীতি-কৌশলের বিরোধ হলে এক পার্টিতে থাকা। আমি কমরেড অমল সেনের ত্যাগ ও কমিউনিস্ট জীবনবোধ সম্পর্কে লেখাটি কমিউনিস্ট আন্দোলনের স্বার্থে হুবহু তুলে দিলাম।
সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনগণের বিকল্প শক্তি, বইয়ের ১৩৩ পৃষ্ঠা থেকে ‘ত্যাগ ও কমিউনিস্ট জীবনবোধ’
ত্যাগ স্বীকার করার কথাটা আধ্যাত্মিক দুনিয়া থেকে রাজনৈতিক দুনিয়ায়, এমনকি মার্কসবাদী বিপ্লবী সংগ্রামের দুনিয়াতেও এসে পৌঁছে গেছে। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে, এই নশ্বর জীবনের ভোগ বিলাসের ব্যাপারগুলিকে ত্যাগ করতে বলা হয়, স্বর্গের চিরন্তন এবং চূড়ান্ত ধরনের ভোগ বিলাসকে সুনিশ্চিত করার জন্য। ব্যাপারটা বোধগম্য।
বুর্জোয়া রাজনীতির জগতে, নেতারা কর্মীদের এবং জনগণকে ত্যাগের আহŸান জানান। দেশ, স্বাধীনতা, মানবতা, প্রভৃতি বিমূর্ত ভাবাবেগের কথা বলেন। এক্ষেত্রে কর্মী ও জনগণ যে ত্যাগ করতে এগিয়ে যান, তার মধ্যে তাদের বাস্তব জীবনের বস্তুগত তাগিদের দিকটি থাকে ঠিকই কিন্তু আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপারটাও বেশ কাজ করে। আর নেতৃত্ব প্রভৃতির মধ্যে যেখানে ত্যাগ করা বা কষ্ট ভোগ করার ব্যাপারগুলি একান্ত সচেতনভাবে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যেই। ব্যাপারটাও বেশ বোঝা যায়। কিন্তু একজন মার্কসবাদী বিপ্লবী কর্মীর কাছে, বিপ্লবের কাজেই ত্যাগ করা, কষ্ট করা, জীবন দেওয়া, প্রভৃতির কী বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি থাকবে? জঙ্গী শ্রেণীসংগ্রামে, জঙ্গী গণআন্দোলনে, লাখো লাখো মানুষ জীবন ও বাস্তব ক্ষয়-ক্ষতির পরোয়া না করে এগিয়ে যান। এখানে মানসিকতাকে বোঝা যায়। নিজেদের অধিকারকে ছিনিয়ে নিতে হবে, নাহলে বাঁচার পথ নেই। বিপ্লবী জীবনে আসতে তাদের কিছু হারিয়ে আসতে হয় না। এখানেও ব্যাপারটা গোলমেলে ঠেকে না। ব্যাপারটা গোঁজামিলের মনে হয় আমাদের মত যারা মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী থেকে বিপ্লবী জীবনে আসবেন, তাদের বেলায়। সাধারণতঃ কমিউনিস্ট হয়ে উঠার ধারা দুইটি। একটি হচ্ছে, বাস্তব জীবনের তাগিদে শ্রেণীসংগ্রামে নেমে কমিউনিস্ট আদর্শ গ্রহন করা এবং তাকে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে কমিউনিস্ট হয়ে উঠা। দ্বিতীয় ধারাটি হচ্ছে, প্রধানত আদর্শের টানে (জীবনের বাস্তব কারণও অবশ্য থাকে) শ্রেণী সংগ্রাম ও অন্যান্য বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপে জড়িয়ে পড়ে নিজেকে কমিউনিস্টে পরিবর্তিত করে তোলা। আর এই দ্বিতীয় ধারাতে কমিউনিস্ট হতে যেয়ে আসে ত্যাগ, আত্মত্যাগ প্রভৃতি ও প্রশ্নগুলি। আদর্শের জন্য? জনগণের মুক্তির জন্য ত্যাগ করতে হবে এই বলে নিজেকে বুঝ দিয়ে উদ্দীপ্ত রাখতে প্রয়াস পাই। আর এটা কি শুধু নিজের বেলাতেই? প্রায়ই শুনা যায়, “অমুক কমরেডের অমুক সামাজিক অবস্থান ছিল, অমুক প্রতিভা ছিল, ইচ্ছা করলে অমুক হতে পারতো কিন্তু সেইসব ত্যাগ করে জনগণের মুক্তির জন্য এই রকম কষ্টের জীবন বেছে নিয়েছেন ইত্যাদি”। জনগণকে বিপ্লবের দিকে উদ্দীপ্ত করবার কী সুন্দর কথা! জনগণের মুক্তির জন্য ত্যাগী পুরুষ, দরবেশ এসে গেছেন। জনগণ, এখনো তোমরা বসে আছো? অর্থাৎ ত্যাগের ব্যাপার এনে সমস্ত বিষয়টাকেই তালগোল পাকিয়ে ফেলা। জনগণের মুক্তির জন্য ত্যাগ করছি, এই দৃষ্টিভঙ্গী একদিকে নিজের মানসিকতায় নিয়ে আসে মুক্তিদাতার অহমিকা, অন্যদিকে জনগণের চিন্তা চেতনার মধ্যে, মুক্তির প্রশ্নে
পরনির্ভরশীলতার যে মনোভাব থাকে তাকে সুড়সুড়ি দেওয়া হয়। অথচ প্রশ্নটি রয়েছে। আমরা অনেকে কিছুটা স্বচ্ছল জীবন যাত্রার সম্ভাবনাকে ত্যাগ করেছি, এটা তো ঠিক। বিপ্লবের কাজে জীবন দেওয়ার প্রশ্নটিও রয়েছে। আর বিপ্লবের জন্য জীবন দেওয়ার ব্যাপারে মার্কসবাদীদের তো আবার অন্য ফ্যাসাদ রয়েছে, তাদের তো আবার পরকালও নেই। তারপর, জীবন সম্পর্কে কোনো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন এলেই লেনিনের কথা কয়টি মনে পড়ে যায়। “মানুষের সবকিছু সম্পদের মধ্যে তার জীবনটাই শ্রেষ্ঠতম এবং এই জীবন নিয়ে একবারই মাত্র বাঁচতে হবে। যাতে মরার সময় এমন আফসোস না আসে যে এর চাইতে সার্থক ভাবে বাঁচা যেত।”
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে একজন কমিউনিস্ট এর মানসিকতায়, আদর্শের জন্য কষ্ট বরণ বা আত্মত্যাগ করছিÑএই যুক্তি ধোপে টেকে না। অনেকে জিজ্ঞাসা করেন, “সারাজীবন কষ্ট করেই গেলেন, সমাজতন্ত্র কী দেখে যেতে পারবেন মনে করেন?” অর্থাৎ সমাজতন্ত্র ভোগই যদি করে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তবে খামাখা জীবনভর কষ্ট করে যাওয়া কেন? বয়স যাদের খুব বেশি নয় তারা হয়তো তাদের জীবনেই সমাজতন্ত্র ভোগ করে যাওয়ার হিসাব রাখতে পারেন। এবং এই ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানে কষ্ট স্বীকার করার একটি যুক্তি খাড়া করতে পারেন। অর্থাৎ পরকালের আশাতে এখন কষ্ট করা ধরনের যুক্তি। কিন্তু বিপ্লবের জন্য প্রাণ দেওয়ার ব্যাপারটায় তাহলে কি যুক্তি থাকবে? কমিউনিস্টদের যখন প্রাণ দিতে হয়, কোনো উত্তেজনার মাথায় বা কোনো উন্মত্ত আবেগের রোমাঞ্চে তারা প্রাণ দেন না। সুদৃঢ় জীবনবোধ থেকেই প্রাণ দেন। একজন কমিউনিস্টের কাছে তার জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। তার কাছে পাপ পূণ্য নেই, পরকাল নেই, পরজন্ম নেই, অথচ তার এই সবচেয়ে প্রিয় জীবনটি দিয়ে দেওয়ারও ঝুঁকি নিয়ে সে এগিয়ে চলে। কোনো গোঁজামিল দিয়ে এর যুক্তি হতে পারে না। আর এখানেই চেতনায় গোঁজামিল থাকে বলেই, দেখা যায় ক্ষণিক উন্মত্ত আবেগে লাফিয়ে পড়ি, আবার পরক্ষণে হতাশা আক্ষেপ। “এত করলাম, তত করলাম, পার্টি করতে গিয়ে পথে বসলাম, প্রভৃতি ধরনের আফসোস আর অভিযোগ”। আবার এমন কথাও শুনা যায় “বিপ্লব করার জন্য এ পথে এসেছিলাম, কিন্তু এরকম উল্টা পাল্টা কারবারই যদি চলে, তাহলে সময় থাকতে পথ দেখতে হয়”।
আসলে কমিউনিস্ট জীবনবোধের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গোলমেলে ধারণা নিয়ে আমরা চলছি। আমরা তো বিপ্লবের জন্য বেগার খাটি। কেউ সমাজতন্ত্র ভোগ করার জন্য এখন কষ্ট করি, কেউবা মানবজাতির মুক্তির মহান আদর্শে আত্মত্যাগ করি।
জীবনটা নিয়ে একবারই মাত্র যখন বাঁচতে হবে তখন সর্বোচ্চ সার্থকভাবে বাঁচতে হবে। আর এই সর্বোত্তম সার্থকভাবে বাঁচা একটি মাত্র পথ হচ্ছে কমিউনিস্ট জীবন। কমিউনিস্ট জীবন যাপন করতে গিয়ে অপরিহার্য যেসব দরিদ্রতা ও অনটন তার কিছুটা উপশম করবার লক্ষ্যে যদি সামান্যকালের জন্যও অকমিউনিস্ট সুলভ জীবন কাটানোর দুর্বুদ্ধি হয় তবে জীবনের এই অপচয় বাস্তব উপকরণের প্রাচুর্য দিয়ে কখনোই পোষানো যায় না। কমিউনিস্ট জীবনের জন্য সামান্য কালের জন্যই সার্থকতম ভাবে বাঁচার জন্যই সুনির্দিষ্ট বাস্তবতায়, মার্কসকে জীবন কাটাতে হয়েছে। সর্বোত্তম সার্থকভাবে বাঁচার কমিউনিস্ট জীবনবোধ সেদিন কডওয়েল ইংল্যান্ড থেকে ছুটে গিয়েছিল স্পেনের গৃহযুদ্ধে। স্পেনের গৃহযুদ্ধে সেদিন গণতান্ত্রিকদের পরাজয় ঘটেছিল। কিন্তু কডওয়েলের প্রাণ দেওয়াটা ছিল সার্থকভাবে বাঁচা জীবনবোধের গত্যন্তরহীন পদক্ষেপ।
সঠিক বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপের জীবন ছাড়া কমিউনিস্ট জীবন হয় না। বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপের পথে সাফল্য গুলি অর্জন করে চলার দিকে যতœবান দৃষ্টি রাখতেই হবে। সুতরাং বিপ্লবী সাফল্য অর্জন করার দিকটি কমিউনিস্ট জীবনে থাকবে না তা অবশ্যই নয়। কিন্তু এটাকেই লাভ লোকসানের সমগ্র দিক করে ফেললে জীবনের হিসাব মেলানো যাবে না। কমিউনিস্ট জীবন আমাকে সর্বোত্তম বাঁচার স্বাদ দিচ্ছে হিসাবটা এখানেই। বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপে, যে অবস্থায়, যে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব সে সাফল্যকে অর্জন করতেই হবে। এটা কমিউনিস্ট জীবনেরই উপাদান, গুরুত্বপূর্র্ণ উপাদান। কিন্তু বিপ্লবী সাফল্যগুলি জীবনের সার্থকতার মাপকাঠি নয়। বিভিন্ন বাস্তব কারণে বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপ সঠিক ধারায় চলা সত্তে¡ও সেরকম কিছু সাফল্য অর্জন করতে পারলো না, অথবা চোট খেল, বা পিছু হটতে হলো, অথবা ভুল হয়ে গেল। তা সত্তে¡ও, ওই সময়কালে কমিউনিস্ট হিসাবে যে বাঁচলাম তার যে স্বার্থকতা, তার যে স্বাদ, তার থেকে বেশি কি ওই সময়ে অন্য কোনো ধরনের জীবন কাটানোর মধ্যে থাকতে পারতো?
জীবনটাকে অপচয়ের হাত থেকে বাঁচাতে, সঠিক ভাবে বাঁচতে আমি কমিউনিস্ট হয়েছি। মার্কসবাদ আমাকে সার্থকভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে। কমিউনিস্ট হয়ে আমি ১০ জনের মাথা কিনে ফেলিনি। আর কেউ যদি কমিউনিস্ট জীবন না চান তার জীবনকে যদি অপচয়ে ব্যর্থ হতে দিতে চান, যদি বলেন যে, তার পাঠার তিনি লেজে কাটবেন সে আহাম্মকি তার নিজের। আসলে সন্দেশ বা যা কিছু আমরা খাচ্ছি, তা অজ্ঞান অবস্থায় খাচ্ছি। সন্দেশ খাওয়ার উপকার শরীরগত ভাবে হয়তো হচ্ছে, কিন্তু সন্দেশ খাওয়ার স্বাদটি আমরা পেতে পারছি না। বিপ্লবী ক্রিয়াকলাপ যাও বা করছি, তাতে কমিউনিস্ট জীবনের ক্রিয়াকলাপগত দিকও হয়তো কম বেশি রয়েছে, কিন্তু জীবনের স্বাদটি ঠিকমত নিতে পারছিনা যেন। অনুভূতি হচ্ছে একটি ংঁনলবপঃ-ড়নলবপঃ ৎবষধঃরড়হ (বিষয়ী-বিষয় সম্পর্ক), এর ংঁনলবপঃরাব (বিষয়ী) দিকটি, কমিউনিস্ট জীবনবোধ সম্পর্কে চেতনার দিকটি, উপলব্ধিতে পরিচ্ছন্নভাবে না থাকলে, কমিউনিস্ট জীবনের স্বাদটি পাওয়া মুস্কিল হয়। আর তাইতো বিপ্লবী জীবনে কষ্ট ভোগ করা ও জীবনদান প্রভৃতির ব্যাপারে মনকে বুঝ দেওয়ার যুক্তি ভাববাদের পুরানো গুদাম থেকে হাতড়ে আনার প্রয়াস পাই, আর এর ফলে নানা ধরণের বিকৃত মানসিকতায় ভুগতে থাকি। কমিউনিস্ট জীবনবোধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট উপলব্ধিটি তাই কমিউনিস্ট ব্যবহার রীতি, পার্টির ক্রিয়াকলাপ এবং নিজের জীবনে বাঁচার স্বাদের মতোই দরকারী।
শ্রেণী বিভক্ত সমাজ, তার দীর্ঘ পরিক্রমার শেষে আজ অস্তচলের দ্বার প্রান্তে। শ্রেণী সমাজের অর্থনৈতিক ভিতই শুধু নয়, তার যা কিছু উপরিকাঠামো, যা কিছু মূল্যবোধ, সবই মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে ধুকছে। এদের বয়স সুদীর্ঘ হতে পারে, এদের শিকড় সুদূর প্রসারী। কিন্তু বয়সের পরিমাপ আজ আর এদের জীবনী শক্তির ধ্রæবক নয়, মৃত্যুর বলিরেখায় আচ্ছন্ন। এদের সুদূর প্রসারী শিকড় আজ মাটি কামড়ে থাকার শক্তি হারা। মানব সমাজ আজ শ্রেণীহীন সমাজের অভ্যুদয়ের সেই উষার স্বর্ণদ্বারের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এই আসন্ন উষার আলোকচ্ছটায় পুরাতন সমাজের গর্ভে নতুন মূল্যবোধের রশ্মিপাত ঘটছে। আসন্ন শ্রেণীহীন সমাজের মূল্যবোধ, কমিউনিস্ট মূল্যবোধকে যে অন্ধকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে, সে অন্ধকার আজ অনেক ফিকে হয়ে উঠছে। কমিউনিস্ট জীবন এবং আচরণ রীতির জন্য সংগ্রাম আজ অনুকুল বাস্তবতায় সমৃদ্ধ।
কমরেড অমল সেনের উপরোক্ত বক্তব্য কমিউনিস্ট পার্টি গঠনে কমিউনিস্ট জীবনবোধের মৌল দৃষ্টিভঙ্গী মনে করি বিধায় আমি উল্লেখ করলাম। এবং এই লেখার ভিত্তিতে কমরেড অমল সেন ও আমাদের কমিউনিস্ট পার্টি করার নীতি-কৌশলকে আলোচনায় আনবার কিছুটা চেষ্টা করবো।
চলবে/




