
কয়েক ডজন রোহিঙ্গা শরণার্থী (প্রত্যেকেই পুরুষ) একটি ভাঙা ইঞ্জিনসহ কাঠের নৌকায় পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ার একটি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছেছেন। সমুদ্রে এক মাস কাটানোর পর তারা প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত ও দুর্বল ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা কয়েক সপ্তাহ আগে সমুদ্রে আটকা পড়া অন্তত ১৫০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী দলের অংশ কিনা তা স্পষ্ট নয়। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে (বার্মা) তাদের আদি নিবাসে নির্যাতিত জাতিগত সংখ্যালঘু। স্থানীয় পুলিশের মুখপাত্র উইনার্ডি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, কাঠের তৈরি নৌকাটিতে ৫৭ জন লোক ছিল।
মুখপাত্র বলেছেন, নৌকাটির একটি ইঞ্জিন ভাঙা ছিল এবং এটি আচেহ বেসার জেলার লাডং গ্রামের একটি তীরে কোনোমতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শরণার্থীরা জানিয়েছেন তারা এক মাস ধরে সমুদ্রে ভেসে ছিলেন ।
স্থানীয় অভিবাসন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, শরণার্থীদের সাময়িকভাবে একটি সরকারি সুবিধায় রাখা হবে। অন্যান্য মিডিয়া রিপোর্ট বলছে ৫৮ জন পুরুষ আচেহ পৌঁছেছেন। অভিবাসীরা কোথা থেকে যাত্রা করেছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি, যদিও অনেকেই প্রায় ১২০০ মাইল দূরে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে বাস করেন বলে জানা গেছে । গত সপ্তাহে, জাতিসংঘ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আন্দামান সাগরের আশেপাশের দেশগুলিকে অন্তত ১৫০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী বহনকারী একটি ছোট মাছ ধরার নৌকাকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছিল যা বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ ছাড়াই সাগরে ভেসে যাচ্ছিল।
স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা সেই সময়ে বলেছিলেন, খাবার ও পানির সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী ইতিমধ্যে মারা গেছেন।
বিজ্ঞাপন
মাছ ধরার নৌকাটি এবার ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার অভিযান থেকে বাঁচতে অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। বছরের এই সময়ে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র ভ্রমণ করে দক্ষিণ বাংলাদেশের উপচেপড়া শরণার্থী শিবির থেকে পালানোর চেষ্টা করছে অনেকেই। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালানোর কারণ সম্পর্কে শরণার্থীরা জানাচ্ছেন- ক্যাম্পে অবস্থার অবনতি হয়েছে, অন্যদিকে মিয়ানমারে থাকা আরও রোহিঙ্গারাও গত বছরের সামরিক অভ্যুত্থানের পর সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। গত দুই মাসে অন্তত পাঁচটি নৌকায় তারা পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র : বিবিসি




