মানবিক কাজের সম্মাননা পেলেন ডাচ নাগরিক

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর, মানিকগঞ্জ : মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডাচ নাগরিক Antoinette Termoshuizen কে
দেয়া হয়েছে সম্মামনা স্বারক। মানিকগঞ্জের ঘিওরে গতকাল সোমবার উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক পত্র তুলে দেন। এসময় ফুল দিয়ে বরণ করে তার কাজের প্রতি স্বীকৃতি সম্মান প্রদর্শন করেন অতিথিরা।
অ্যান্টোয়েনেট টারমোশুইজেন (Antoinette Termoshuizen) একজন ডাচ নাগরিক। তিনি ডিজএ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন এন্ড রিসার্চ এসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের নিয়ে কাজ করেন। ৩০ বছর যাবৎ বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূনর্বাসন ও অধিকার আদায়ের জন্য তাঁর কাজের স্বীকৃতি সরুপ এ সম্মাননা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, Antoinette Termoshuizen মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ করেন। ঘিওর উপজেলায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে দুইটি ডে-কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পূর্নবাসন সেবা
দিচ্ছেন। একিভূত সমাজ গঠনে ও প্রতিবন্ধী বান্ধব সমাজ তৈরীর করার জন্য আপ্রান পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সময় তিনি অসহায় শিশুদের নগদ অর্থ ও খাদ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। প্রতিবন্ধী শিশুর পরিবারকে আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার জন্য রিকশা, ভ্যান, সেলাই মেশিন, উপকরণ ও সার বীজ দিয়ে সহযোগতিা করেছেন। প্রথম অবস্থায় একটি ভাড়া বাড়িতে মাত্র ১০ জন প্রতিবন্ধী শিশু নিয়ে কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই হাজার প্রতিবন্ধী শিশু কিশোর সেবা পাচ্ছে। তার মমতার চাদরে আগলে রাখেন সকল শিশুদের; তাই প্রতিবন্ধী শিশুরা তাকে খালম্মা বলে ডাকেন।
প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন ও গবেষণা সংস্থা ডিআরআরএ’ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী ডালিমা রহমান বলেন, Antoinette Termoshuizen শিক্ষাজীবনে সাইকেল নিয়ে বিশ্ব ভ্রমন করার উদ্দেশ্যে বের হন বন্ধুদের সাথে। বাংলাদেশে এসে তার গতি থেমে যায়। মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার ফলসাটিয়া বাসষ্টান্ডে যাত্রা বিরতির সময় একজন গুরুতর শারিরিক প্রতিবন্ধী শিশুর সাথে দেখা হয়। তার সাথে কথা বলেন তিনি। সেই প্রতিবন্ধী শিশুর হামাগুড়ি দিয়ে পথ চলা দেখে সেদিন তার অনেক কষ্ট লেগেছিল । তাই তিনি তার বিশ্ব ভ্রমন করার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের দেশে ফিরে যান এবং ফান্ড সংগ্রহ করে আবার বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ডিজএ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন এন্ড রিসার্চ এসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) সংস্থার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশু কিশোরদের নিয়ে কাজ করেন।
এই মানবতাময়ী নারীর হাতে সম্বামনা স্বারক তুলে দেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব, ইউএনও হামিদুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মোহছেন উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: আব্দুল মান্নান প্রমুখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রশাসনের সকল বিভাগের এবং ডিআরআরএ এর কর্মকর্তাবৃন্দ।
Antoinette Termoshuizen বলেন, এ অঞ্চলের প্রতিবন্ধী শিশুরা এখন আর পরিবার ও সমাজের বোঝা নয়, তারা সম্মান ও মর্যাদার সাথে জীবন যাপন করছে।
আজ আমি ঘিওর উপজেলার প্রশাসনের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছি। আমার কাছে খুব বিশেষ একটা মুহূর্ত। সম্মানটি DRRA কর্মীদের কাছে যাওয়া উচিত, যারা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি ভাল ভবিষ্যত অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের যে মহান সহযোগিতা রয়েছে তার জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, এই মহিয়সী মানুষকে আমাদের উপজেলার পক্ষ থেকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। তার মতো মানষেরাই সমাজের আলোক বর্তিকা।




