
বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত‘জালভোট মুক্ত নির্বাচনে ইভিএম বনাম বিকল্প প্রস্তাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত দাবি জানান। পার্টির সভাপতি শেখ নিজাম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনেম। উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয় ইউরোপ-আমেরিকাসহ যে সকল দেশে ইভিএম উদ্ভাবন ও উৎপাদন হয়েছিল সেসব দেশেই আজ ইভিএম প্রত্যাখ্যাত। কাজেই বাংলাদেশে ইভিএম ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারেনা। জালভোট মুক্ত নির্বাচনে ইভিএম এর বিকল্প প্রস্তাবে বলা হয়- বর্তমানে বাংলাদেশের সকল প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক জাতীয় পরিচয় পত্রের অধিকারী। এই জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে এর নম্বর, সংশ্লিষ্ট ভোটার এলাকায় ভোটার নম্বর এবং ভোট সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য এক পৃষ্ঠায় এবং বোধগম্য (পাসপোর্ট/কাছাকাছি) সাইজের একটি ছবি অপর পৃষ্টায় যুক্ত করে সকল নাগরিকের জন্য ভোটারকার্ড বানাতেহবে। ভোটেরদিন ভোটকেন্দ্রে যে ভোটার তালিকা ব্যবহৃত হবে তাতেও একই সাইজেরছবি থাকবে। এক সপ্তাহ পূর্বে তারিখ ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের ২/৩ দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিং অফিসারগণ বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইকরে সাক্ষর/ টিপসহি রেখে নাগরিকদের হাতে ভোটারকার্ড হস্তান্তর করবেন। ঠিকানাস্থলে অনুপস্থিত ভোটারদের কোন আত্মীয়স্বজন যদি দায়িত্ব নেন তাহলে মোবাইল কলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে কৌশলে যাচাই করে স্বাক্ষর/টিপসহি নিয়ে আত্মীয় স্বজনের নিকট কার্ডটি হস্তান্তর করবেন। অবিতরণকৃত কার্ডগুলো সীলগালা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের তত্বাবধানে রাখবেন। ভোটের দিনে ভোটারগণ ভোটার কার্ড সাথে নিয়ে ভোট দিতে যাবেন। ভোটার তালিকার নম্বর ও ছবির সাথে কার্ডের তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভোটারকে ব্যালট পেপার প্রদান করবেন ও হাতের আঙুলে অমোছনীয় কালি লাগিয়ে দিবেন। ভোটার গোপন কক্ষে গিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করে যথানিয়মে ব্যালট বাক্সে ঢুকিয়ে রেখে ভোট কক্ষত্যাগ করবেন। এর ফলে যতজন ভোটার ভোটদান করবেন তত সংখ্যক কার্ডও ঐ কেন্দ্রে জমাহবে এবং তত সংখ্যক ব্যালট পেপারও বাক্সে পাওয়া যাবে। জনগণ জাল ভোটের কলংক থেকে মুক্তি পাবে।
বক্তরা আরো বলেন, দেড়শ আসনের নির্বাচনে ইভিএম বাবদ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়হতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনেই ইভিএমএ নির্বাচন করতে গেলে আরো কমপক্ষে ১৭ হাজার কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়হবে। যাতে জনগণঅ বাধে ভোট দিতে পারলেও ভোটের ফলাফল সরকারের ইচ্ছাতে নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে ভোটার কার্ডে নির্বাচন করতে গেলে মাত্র ৩শ’ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তাই দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে যাওয়া দেশটির জন্য ইভিএম প্রকল্প পরিত্যাগ অত্যাবশ্যক এবং ভোটার কার্ড প্রকল্পই সমাধান।
সভায় বক্তব্য রাখেন, গণপরিষদ আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীবীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, দার্শনিক আবু মহি মুসা, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আমীন, সোনার বাংলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পার্টির সাধারণ সম্পাদক এএএমফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সিনিয়রসহ-সভাপতি অসি উজ্জামান খান মিন্টু, বেকার সমাজের চেয়ারম্যান মোঃ হাসান, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মির্জা আজম, বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মোঃ আবু আহাদ আল মামুন, পিস ফোরামের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন রাজা, শহীদ সাংস্কৃতিক স্মৃতি কর্মী পরিষদের আহ্বায়ক অলক চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি




