চৌফলদন্ডীর একটি পরিবার ন্যায় বিচার বঞ্চিত
নুরুল আজিম,কক্সবাজার : কয়েক দফে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও মারধরের পরও সুষ্ঠু বিচার বঞ্চিত একটি পরিবার। কক্সবাজার সদর উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন চৌফলদন্ডীর ৭ নাম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাড়ার এ পরিবারটি প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন। ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বারবার থানা পুলিশ এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, উক্ত ইউনিয়নের আলী আকবরের পরিবারটি ছোটখাটো একটি পরিবার। স্ত্রী, পুত্র এবং কন্যা সন্তান নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন তাদের বসবাস। তাদের বসতভিটার লাগোয়া দক্ষিণ পার্শ্বে জমি ক্রয় করা যেন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বসত বাড়ির পূর্ব পাশে যে জমিটা কিনেছে তা নিয়েও বিরোধ বাঁধাচছে প্রতিপক্ষরা।
আলী আকবরের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪৫) জানান, তার স্বামী তাদের বসত ভিটার লাগোয়া দক্ষিণ পার্শ্বে কিছু জমি ক্রয় করেছেন। জমির মালিক তাদেরকে জমির দখলও বুঝিয়ে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও প্রতিবেশী কয়েকজন তাদেরকে এ জমির দখলে যেতে দিচ্ছে না। জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা গত মাস ও চলতি মাসে তিন দফায় তাদের বসতবাড়িতে ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে তিনি ও তার পুত্র মোহাম্মদ রাসেল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। বিষয়টি প্রথমে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মুজিবকে অবহিত করেন। তবে নানা অজুহাতে চেয়ারম্যান এর সমাধান দিতে কালক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন রাশেদার কলেজ পড়ুয়া পুত্র মোঃ রাসেল উদ্দিন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তারা ৯৯৯ এ ফোন দিলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই বুলবুলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি সরেজমিন বিবদমান পক্ষগুলোর সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দেন। পরে প্রতিপক্ষরা বসতবাড়িতে আবারো ভাংচুর চালালে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি পুনরায় জানান। এর প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান স্থানীয় চৌকিদার মুহাম্মদ এরশাদকে ঘটনাস্থলে পাঠালেও তার ভূমিকা ছিল সম্পূর্ণ রহস্যজনক। এমনতর অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের।
এতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় আহতরা নিরুপায় হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা কর্তৃপক্ষ এসআই বুলবুলকে পুনরায় ঘটনাস্থলে পাঠান। অভিযোগ পত্রে নুরুল কবির, নুরুচছফা ও নুরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা একই এলাকার মৃত আনছুর আলীর পুত্র।
ভুক্তভোগীরা আরো জানান, প্রতিপক্ষরা গত এপ্রিল মাসের ১৯ ও ২৬ তারিখ এবং চলতি মাসের ৩ তারিখ তাদের বাসা বাড়িতে আক্রমণ চালায়। তাদের অভিযোগ, তারা প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকির সম্মুখীন। তাদেরকে ঘর থেকে বের হতে দেবে না এবং ঘরছাড়া করবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় নির্যাতিত এক পরিবারের সদস্যরা জীবন বাঁচাতে স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কর্তৃপক্ষ নজর দিলে তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সহজতর হবে বলে মনে করছেন দুর্দশাগ্রস্ত এ পরিবারের লোকজন।


