বালু মহাল নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পাহাড়ের জাম বালু দিয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজ

লোঙা খুমি,রুমা (বান্দরবান) : বান্দবানের রুমায় সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরের সড়ক উন্নয়ন কাজে বালুমহাল নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিকল্প হিসেবে পাহাড়ের ভালো মানের জাম বালু দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছে । কোনো ঝুঁকি নিরুপণ ছাড়াই পাহাড় ছড়িয়ে সড়ক নির্মাণ হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার মতো ঘটনা এখনো ঘটেনি ।
সড়ক নির্মাণের পাহাড় ছড়িয়ে নেয়া জাম বালু গুলো সড়ক নির্মাণ কাজের বালু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রুমায় বিভিন্ন সড়ক নির্মাণের স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাচউবো) চলমান বাস্তবায়নাধীন সড়ক নির্মাণের বালু সাদৃশ এক প্রকার পাহাড়ের জাম বালু দিয়ে রাস্তার নির্মাণের ব্যবহার করে আসছে। এটি নতুন করে সকলের অজানা কিছুই নয়। সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলণে আইন সম্মত নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় পাহাড়ের জাম বালু বিকল্প আর দেখছেন না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুলো। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ১৯৯৫(১৯৯৫সনের ১নং আইনের) এর অধীনে পরিবেশ গত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে কোন উম্মুক্ত স্থান,চা বাগানের ছড়া,বা নদীর তলদেশ হইতে বালু বা মাটি উক্তোলন করা যাইবেনা। সেতু, কালভার্ট,ড্যাম,ব্যারেজ, বাঁধ,সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে অথবা আবাসিক এলাকা হইতে ১(এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার অভ্যন্তরে মধ্যে থেকে বালু উত্তোলন করা যাবেনা। তবে বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে প্রশাসন বৃহত্তর স্বার্থে এলাকায় জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লিখিত কোন বিষয়ে শর্ত শিথিল করিতে পারে। নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, মৎস্য,জলজ,প্রানী বা উদ্ভিদ বিনষ্ট হইলে বা হইবার আশংকা থাকলে তাতে বালু উত্তোলন করা যাবেনা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)‘র পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাচউবো) রুমা-রোওয়াংছড়ি সড়ক, রুমা -মুননুওয়ান সড়ক কাজে ভালো মানের (পাহাড়ের জাম বালু) দিয়ে কাজ করে শেষ হয়ে গেছে। নিঃসন্দেহে সড়ক নির্মাণের মান এখনো নির্নয় করা না গেলেও এখনো বড় ধরণের ঝুঁকির বা আশংকা নেই।
চলমান এলজিইডি ৯৮ লক্ষ টাকার ব্যয়ে পাইন্দু হেডম্যান মার্মা পাড়া যাওয়া রাস্তার উন্নয়নের স্বার্থে কিছু পাহাড় ছড়িয়ে জাম বালু দিয়ে কাজ করলেও এখন ভালো মানের বালু দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
গত রবিবার (২০মার্চ) প্রকাশিত আজকের পত্রিকায় পাহাড় ছড়িয়ে রাস্তার নির্মাণের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাই রুমা-রোয়াংছড়ি সড়কে চান্দা পাড়ায় নামন্তি রাস্তার টার্নিং পয়েন্টে এ্যাসস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় ছড়িয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজের জাম বালুর নেওয়া হয়েছে। পাহাড় কেটে জাম বালু সংগ্রহ করলেও পাহাড় / মাটি পড়ার তেমন একটা আশঙ্কা দেখছিনা।
পাইন্দু ইউপি চেয়ারম্যান উহ্লামং মার্মা বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্র কিছু কিছু ত্যাগ করতে হবে। সেই স্বক্ষমতা জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, প্রশাসন সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান।
অন্য দিকে ঠিকাদার আনোয়ার বলেন, রুমায় সাঙ্গু নদী থেকে বালু উক্তোলনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ থাকায় অন্যান্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মতো আমাকেও পাহাড়ের জাম বালু ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে এখন জাম বালু দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাংবাদিকদের বলেন বিষয়টি আমি দেখছি । রুমার এলজিইডি‘র উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিক সাংবাদিক দের বলেন, সবখানে এভাবে জাম বালু দিয়ে চলছে, সেটা সবার অজানার বিষয় নয় বলে জানান। এলাকা লোকজন কোনো অভিযোগ থাকলে, কাজটি বন্ধ করে রাখতে পারি। রাস্তার নির্মাণ কাজে জাম বালু ব্যবহারে এলজিইডি‘র সহকারী প্রকৌশলী ও রুমা উপজেলায় প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বশীল মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, খোঁজ নিয়ে আমি দেখতেছি।




