সিংগাইরে মাটির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব

সিরাজুল ইসলাম,সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের হাতনী চকে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দু‘গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। অনুমতি নিয়ে পুকুর কাটার সময় রাতের আধাঁরে ভেকু পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে । মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ওই চকে একাধিক ধাওয়া,পাল্টা -ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় থানায় দায়ের করা হয়েছে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে জামির্ত্তা-হাতনী চকে ফসলিজমি থেকে মাটি কাটার প্রতিবাদ করে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যার নেতৃত্বে ছিলেন জামির্ত্তা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগে এ আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ফসলিজমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি তাকে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, চেয়ারম্যানের আশীর্বাদপুষ্ট লোকজন মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত হওয়ায় তিনি নিরব ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে, ওই ইউনিয়নের সুদক্ষিরা গ্রামের হাজ্বী সিরাজ মোল্লার পুত্র বাদল মিয়া নিজেকে ঠিকাদারী ব্যবসায়ী দাবী করে তার ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। বাদল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ লোক মোতালেব মেম্বার ,ইয়াসিন, শাহীন, রউফ, শাহীনুর, সুলতান, আমজাদ, সাইদুর ও বাদশা মিয়া প্রকাশ্যে মাটির ব্যবসা করছে। আমি অন্য এলাকা থেকে মাটি এনে বিক্রি করতে গেলে তারা বাঁধা দিচ্ছেন। বিষয়টি আমি আইন শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অপরদিকে, হাতনী চকে গত ১৪ মার্চ রাতে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ভেকু পুড়িয়ে দেয়া হয়। পর দিন ফলাও করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে চলছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। স্থানীয় অনেকেই বলছেন, আইন হাতে তুলে নেয়া ঠিক হয়নি। প্রতিপক্ষ গ্রুপ জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন ভাবে মাটি কাঁটা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ার পর ঐক্য বন্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ভেকু মালিক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে পানিশাইল গ্রামের শুকুর আলীর পুত্র ছলিম উদ্দিন ২৫০শতাংশ জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করার অনুমতি নেন। তার সাথে চুক্তি অনুযায়ী আমরা মাটি কাটতে গেলে হাতনী গ্রামের কুদ্দুস (৫০), আব্দুর রহমান( ৪৬) ও হামিদের (৪৮) উস্কানিতে মাটির কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকু পুড়িয়ে দেয়া হয়। তিনি আরো জানান, এতে তার ১৬ লাক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে । ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দাবী করেন ভুক্তভোগী সিরাজুল।
ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার প্রতিবাদে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা জনৈক ব্যক্তি বলেন,মাটি ব্যবসায় বর্তমান চেয়ারম্যানের হাত থাকলেও ফসলিজমি থেকে মাটির কাটার সরাসরি শেল্টার দেন না তিনি। মাটি কাটা নিয়ে চেয়ারম্যানের বর্তমান ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মনে করেন তিনি। জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হোসেন বলেন, যারা মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত ও ফসলি জমি নষ্ট করে তারা আমার এবং জনগনের শত্রু। ভেকুপুড়িয়ে দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকটি অন্যায় করা অবশ্যই অপরাধ।



