দক্ষিণ সুরমায় ঈদগাহ নির্মাণকে কেন্দ্র করে হামলা-মামলা

আবু তালহা তোফায়েল,সিলেট : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিকন্দরপুর পশ্চিম মহল্লা পুরাতন জামে মসজিদটি সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়ে। মসজিদ কমিটি ও গ্রামবাসী মিলে মসজিদ সম্প্রাসারণ করেন। মসজিদের পাশেই ছিল পুরাতন স্থানীয় ঈদগাহ। মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য ঈদগাহ’র অর্ধেক জায়গা মসজিদের ভেতর ঢুকে পড়ে। পরে শায়খ আহমদের পরিবারের লোকজন ঈদগাহের জন্য পূর্বের ঈদগাহের অবশিষ্ট যায়গার সাথে থাকা তাদের নিজস্ব যায়গা থেকে আরও ৮ শতক জায়গা ঈদগার জন্য ওয়াকফ করে মসজিদ কমিটি এবং মহল্লাবাসীর কাছে সেটা হস্তান্তর করেন।
গত কয়েকদিন ধরে সিকন্দরপুরের হাজারী গ্রুপের লোকজন মহল্লাবাসীর নির্মিত ঈদগাহর বিপক্ষে অবস্থান নিলে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হাজারি বাড়ির লোকজন গ্রামবাসীর যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত ঈদগাহর বিপক্ষে গিয়ে পারিবারিক প্রভাব বিস্তারের লক্ষে পারিবারিক নাম ফুটানোর লক্ষে পারিবারিক নাম দিয়ে পৃথক একটি ঈদগাহ স্থাপনের অহেতুক চেষ্টা শুরু করেন। এমনকি মসজিদ থেকে অনেকটা দূরে জায়গা নির্ধারণ করে ‘হাজারীবাড়ি ঈদগাহ প্রস্তাবিত জায়গা’ বলে পারিবারিক একক সিদ্ধান্তে একটি সাইনবোর্ডও টানায়, এবং পারিবারিক নাম দিয়ে পাঞ্চাইতী বা মহল্লাবাসীর ঈদগাহ হিসেবে চালিয়ে দিতে চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু মহল্লাবাসী তাদের এই পারিবারিক আধিপত্য প্রতিষ্টার অহেতুক চেষ্টার বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ এবং ঘৃণ্যতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা ছিল চরমে।
হাজারি গ্রুপের এই পারিবারিক আধিপত্যের এবং মনগড়া কর্মকান্ডের প্রতি মসজিদ কমিটি এবং মহল্লাবাসী সহমত প্রকাশ না করায় হাজারি গ্রুপের লোকজন মারমুখী হয়ে পড়েন। সেই রেশ ধরে গত শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারী) বাদ জুম’আ হাজারী গ্রুপ কর্তৃক হাজারিবাড়ির মামলাবাজ দালাল নামে পরিচিত, শামসুজ্জামান কবিরের হুকুমে আখলাকুল মাওলা বাহার, তাদের ভাতিজা জামাত শিবিরের মিফতাহুজ্জামান মিফতা, দক্ষিণ সুরমা তথা সিলেটের লিস্টেট দুই ছিনতাইকারী সন্ত্রাসী তার ভাতিজা সাকি হাজারী এবং বাচ্চু হাজারী, মোশতাক ও ভাড়াটে বেশ কয়েকজন মাস্তান জুবের ও বিলাল,ছাবের, শিবির ক্যাডার বদর, রুবেল সহ হাজারি বাড়ির আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মসজিদ এবং ঈদগাহ উন্নয়ন সংক্রান্ত পাঞ্চাইতী বৈঠকে এলোপাতাড়ি হামলা চালালে শায়েখ আহমদ, তার ছেলে তানভীর ও ভাই আখতার মারাত্মক আহত হন। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র দা’ ও অন্যান্য অস্ত্রের আঘাতে চিহ্নও দেখা যায়। এখন আহতরা সিলেট উসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোগলাবাজার থানায় ১টি মামলা করা হয়েছে কিন্তু আসামীদের নাম বা মামলা নং জানা যায়নি।




