রাজাপুর পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, তড়িতাহত গাছ শ্রমিককে ঢাকায় প্রেরণ

মোঃ শাহাদাত হোসেন মনু, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর পল্লী বিদ্যুত অফিসের গাফিলতিতে তড়িতাহত গাছ শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় থেকে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। তড়িতাহত তাকিবের বাম হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা এ নির্দেশনা দেয়। তাকিব (২০) শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কেওতা গ্রামে গাছ কাটার
দিনমজুরী করতে গেলে তড়িতাহত হয়ে নীচে পড়ে যান। এতে শরীরের একাধিক স্থান পুড়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। সহকর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(শেবাচিম) প্রেরণ করে। অসহ্য যন্ত্রণায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের বিছানায় ১দিন কাতরানোর পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। আহত গাছ শ্রমিক তাকিব (২০) উপজেলার সাকরাইল গ্রামের আ. কাদের’র পুত্র।
জানাগেছে, রাজাপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগামী ৫ ফেব্রæয়ারি শনিবার সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত রাজাপুর উপজেলায়(রাজাপুর উপকেন্দ্র -১ ও ২ (বড়ইয়া ইউনিয়ন ব্যতিত) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। কাজের স্বার্থে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে মর্মে বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌঃ মোঃ ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত নোটিশে শুক্রবার মাইকিং করে রাজাপুর উপজেলা জুড়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সেই সাথে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এ তথ্য পোস্ট করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে কোন ধরনের মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা না করেই শুধুমাত্র রাজাপুর পল্লী বিদ্যুত অফিসের ফেসবুক পেজে “০৫/০২/২২ ইং তারিখ রোজ শনিবার রাজাপুর ৩৩ কেভি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য লাইন বন্ধ থাকার কথা ছিলো। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়েছে।” স্টাটাস দিয়ে সীমাবদ্ধ রাখে। এতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।
গাছ ব্যবসায়ী ওয়াহিদুর রহমান জানান, শুক্রবারের মাইকিং অনুযায়ী উপজেলায় বিদ্যুত থাকবে না এমনটা শুনে বিদ্যুতের খুটি সংলগ্ন ঝুকিপুর্ণ গাছ
কাটানোর সিদ্ধান্ত নেই। দুপুর ১টার দিকে গাছের ডাল কাটতে গাছে ওঠে তাকিব। ডাল বিদ্যুতের তাড়ের উপরে পড়তে মা বলে চিৎকার দিয়ে তাকিব নীচে পড়ে যায়। কাচা ডালে আগুন জ্বলতে থাকে। এতে তাকিবের একাধিক স্থান পুড়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। প্রথমে রাজাপুর হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। এখন সে অসহ্য যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এব্যাপারে রাজাপুর পল্লী বিদ্যুত অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌঃ মোঃ ওমর ফারুক জানান, আমাদের না জানিয়ে গাছ কেন কাটবে। বিদ্যুত থাকুক আর নাই থাকুক আমাদের জানিয়েই গাছ কাটতে হবে বলেই মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।



