
আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ প্রায় সব খাতেই বিভিন্ন হারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে গ্যাস বিতরণকারী ছয়টি কোম্পানি: তিতাস, বাখরাবাদ, পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানি, সুন্দরবন, কর্ণফুলী ও জালালাবাদ – এই কোম্পানিগুলো মূল্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে তারা বসতবাড়ির গ্যাস দুই চুলা প্রতি ২,১০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে যা পূর্বে ছিল ৯৭৫ টাকা!প্রায় ১১৭% হারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব। এছাড়া, মিটারে চুলাপ্রতি ১২ টাকার স্থলে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ২৭ টাকার! এবি পার্টির আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী এবং সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মন্জু এক বিবৃতিতে এই অবাস্তব ও অসময়োচিত প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই কোম্পানিগুলো প্রথমে একটি কৃত্রিম সংকট দেখাতে চায়; ঢাকায় প্রায় সকালেই এখন গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। গ্যাস স্বল্পতা বা না থাকার কারণে লাইনের গ্যাস চালান এমন অনেক পরিবারকেই বাইরে থেকে সকালের নাস্তা ক্রয় করতে হয়, এটাই বর্তমানে ঢাকার প্রতিদিনকার বাস্তবতা। কেউ কেউ আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন কিন্তু বিইআরসি’র তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাসের চাহিদার ৭৫% নিজেরা উৎপাদন করে আর ২০% আমদানী করে, কেবল ৫% গ্যাসই আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে ক্রয় করা হয়। কেবল ৫ শতাংশের দোহাই দিয়ে বাকী ৯৫ শতাংশের দাম বৃদ্ধির নাটক কোনো ইনসাফপূর্ণ কথা হতে পারে না বলে মনে করেন এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে আরো বলা হয় যে গত মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে যে বঙ্গোপসাগরে ১৭-১০৩ ট্রিলিয়ন পর্যন্ত ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে; যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডকে সাথে নিয়ে করা এই যৌথ সমীক্ষাকে সামনে রেখে গ্যাসের উত্তোলন ও বিপননে মনোযোগ দেবার আহবান জানানো হয় বিবৃতিতে।
জনাব চৌধুরী ও মন্জু আরো বলেন, জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে যেন গ্যাসের অপচয় না হয়। সরকারকে বিভিন্ন দেশের সাথে অনবায়নযোগ্য জ্বালানী সংক্রান্ত চুক্তি কমিয়ে, নিজের দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা উচিত। একইসাথে, জ্বালানী বিভাগের আকাশসম দূর্নীতিকেও রুখার উদ্যোগ নিতে হবে, তা না করে কেবল জনগণের অর্থ হাতানোর চেষ্টা করলে জনগণও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয় বিবৃতিতে।




