Uncategorized

ঢাবি ছাত্রী এলমা চৌধুরী মেঘলার হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে ধামরাইয়ে মানববন্ধন

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ধামরাইয়ের পাঠানটোলা মহল্লার সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বড় মেয়ে এলমা চৌধুরী মেঘলার (২৪) হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে ঢাকার ধামরাইয়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন ধামরাই প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও নিহতের পরিবারের স্বজনরা এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত এলমা চৌধুরী মেঘলার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, চাচা তেনজিন চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর আমিনুল হাসান গার্নেল, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন, প্রথম আলোর সিনিয়র সাব-এডিটর মাহমুদ ইকবাল, ধামরাই প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু হাসান, নিরাপদ সড়ক চাই ধামরাই শাখার সভাপতি নাহিদ মিয়া, অঙ্কুর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মন্জুরুল হক রনি, স্বপ্নডানা সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার ফেরদৌস রানা, সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি ইমরান হোসেন, রক্ত সৈনিক সংগঠনের সভাপতি নাহিদ খান, ইচ্ছে আলোর জাহিদ হাসান প্রমূখ।
মানববন্ধনে নিহত এলমা চৌধুরী মেঘলার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করেছে। বিয়ের পর ইফতেখার ও তার মা-বাবা এলমাকে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে বলে। এলমা পড়া বন্ধ করতে না চাওয়ায় ইফতেখার ও তার মা-বাবা মিলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এলমার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি চাই। আর যেন কোন মেয়ে তার শশুরবাড়িতে এমন ঘটনার সম্মুখীন না হয়।
নিহত এলমার চাচা তেনজিন চৌধুরী বলেন, আমার ভাতিজিকে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্বপ্নডডানা পরিবারের সভাপতি ও এলমার ফুফাতো ভাই শাহরিয়ার ফেরদৌস রানা বলেন, আমার বোনের শরীরের জখম দেখে চমকে গেছি, সারাশরীরে আঘাতের চিহ্ন। এমন নৃশংস হত্যার কঠোর বিচার চাই।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার এলমা চৌধুরী মেঘলাকে স্বামীর বনানীর বাসায় একটি রুমে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে মেঘলার স্বামী ইফতেখারকে বনানী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে বনানী থানায় স্বামী ইফতেখার তিনদিনের রিমান্ডে রয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বাসিন্দা মো. আমিনের ছেলে কানাডা প্রবাসী ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে ১০ লাখ টাকা কাবিননামায় বিয়ে হয় ধামরাই পাঠানটোলা মহল্লার সাইফুল ইসলাম চৌধুরীর বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরী মেঘলার।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button