মতামতশিরোনাম

প্র তি ক্রি য়া : নিষেধাজ্ঞার খবর দুঃখজনক

মরিয়ম চম্পা
ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার যে খবর এসেছে তা দুঃখজনক বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন- চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে
এমন খবর হতাশার। তবে যেহেতু বিষয়টি দুই দেশের সরকারের তাই এটি অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ভারত সরকার টিকা রপ্তানির ওপর যদি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকেন তাহলে এটা দুঃখজনক। আমরা আর কি করতে পারি? তাদের জিনিস তারা দেবেন না। পিয়াজের উপর নিষেধাজ্ঞার পরে আমরা অন্য দেশ থেকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু ভ্যাকসিন তো আর নিয়ে আসতে পারবো না। আমাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে।
অন্য কোনো উৎস থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা যায় কিনা। সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদার পুনেওয়ালার বরাত দিয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং ভারত ও বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তারা এই মুহূর্তে টিকা রপ্তানি করতে পারছে না। বিষয়টি নিয়ে এখন আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর’র সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমাদের যে নীতিমালা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন অথবা উন্নত যে সাতটি দেশ তাদের অনুমোদন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুমোদন প্রয়োজন আছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অনুমোদন কিন্তু শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেয়নি। কিংবা আরেকটি দেশ লাগবে। যেকোনো দু’টি দেশ অথবা অনুরূপ আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। না হলে আমাদেরকে পুরো ডাটা এনালাইসিস করে কাজটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। কাজেই এমনিতেই আমাদের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর তাদেরও সময় লাগছে। অন্যদিকে মন্ত্রী এবং সচিব তারা যোগাযোগ করেছেন। ভারত সরকারের সঙ্গে বেক্সিমকো যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছেন, চুক্তি মোতাবেক ভ্যাকসিন পেতে সমস্যা হবে না। দ্বিপক্ষীয়ভাবে নিয়ে আসতে আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করবো। প্রায় দশ থেকে বারোটি টিকা উদ্ভাবনকারী দেশ জরুরি ব্যবহারে নাম তালিকাভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করেছে। কাজেই এটা নিয়ে মনে হয় না খুব একটা তাড়াহুড়ো করার কিছু আছে। সমস্ত বিধি মোতাবেক নিয়মনীতি মেনেই আমরা পাবো। আমাদের নিজেদেরও উপযুক্ত কাগজপত্র এবং প্রমাণ প্রয়োজন হবে।
সুত্র : মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button