
উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেলেও কর্মসংস্থানের অভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এসব শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত চাকরিপ্রত্যাশী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদ।
একইসঙ্গে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নেরও দাবি জানানো হয়। আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মো. আলী হোসাইন বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সন্তান উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেলেও শুধু কর্মসংস্থানের অভাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নিশ্চয় আপনি অবগত আছেন, উচ্চ শিক্ষিত বেকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত বেকারভাতা প্রদানের দাবিসহ ছয় দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা নিয়ে আমরা দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দ্বারস্থ হচ্ছি। পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন করছি। আজ যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মক্ষেত্র তৈরির জন্য সরকারের একটি নির্দিষ্ট অধিদফতর থাকতো তাহলে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করতে হতো না।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গত বছরের ৯ই অক্টোবর গ্র্যাজুয়েট পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পায়। উক্ত সাক্ষাতে আপনি আমাদের কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সার্বিক সমস্যা সমাধানকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণোদনা প্রদানে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কিন্তু আপনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরসহ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও প্রতিবন্ধী ফোরামের মতো উল্লেখযোগ্য সংস্থাগুলো আমাদের জন্য কোনও কার্যকর পরিকল্পনা বা উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডিজএ্যাবিলিটি কোঅর্ডিনেটর জাহিদ কবির টিটু। তাছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা বেগম পপি।




